এ ধারা ধরে রাখতে হবে

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সুমনা ইয়াসমিন

৬ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার এসএসসি, মাদ্রাসা ও কারিগরিতে পাসের হার যথাক্রমে ৮২ দশমিক ৮০, ৮৩ দশমিক শূন্য ৩ ও ৭২ দশমিক ২৪ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

গত বছরের চেয়ে এবারের গড় পাসের হার বেশি।

এবার উল্লেখ করার মতো ঘটনা হল প্রশ্নফাঁস না হওয়া। এতদিন কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছিল না প্রশ্নফাঁস। ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে, মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে প্রশ্নফাঁসের কথা জানানো হতো। বেগতিক পরিস্থিতিতে ফেসবুক বন্ধও করা হয়েছিল। চারদিকে ঝড় উঠেছিল বিতর্কের।

সংসদেও উঠেছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি। মন্ত্রী প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতকে ধরিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্টো গত এক দশক ধরে শিক্ষায় রেকর্ড সাফল্য অর্জন করা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল প্রশ্নফাঁসের ক্ষতে।

এ প্রেক্ষাপটে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। মন্ত্রিসভা গঠনে ‘চমক’ প্রদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এবার শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন নবম জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ডা. দীপু মনিকে।

দেশের প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সামনে শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা। মন্ত্রী সমস্যা চিহ্নিত করে এর মূলোৎপাটনে নজর দেন।

প্রযুক্তি বন্ধ করে সমাধানের পথে না হেঁটে প্রযুক্তি দিয়েই তিনি প্রযুক্তিকে মোকাবেলা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রথমে মাধ্যমিক এবং পরবর্তী সময়ে চলমান উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জে সফলতার সঙ্গেই উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

বছরের প্রথম দিন থেকে শিক্ষাপঞ্জি শুরু। শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়া এবং সরকারের নেয়া নানা কর্মসূচি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

এখন আমাদের নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষার মান। এজন্য প্রয়োজন মানসম্মত শ্রেণীকক্ষ ও মানসম্পন্ন শিক্ষক। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। দেশের সেই ভবিষ্যৎ নাগরিকদের গড়ে তোলার দায়িত্ব যাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে, তাদের শিক্ষার মান হতে হবে প্রশ্নাতীত।

বরাবরের মতো এবারের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। মেয়েরা ভালো ফল করেছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দেশের কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান বৃদ্ধি করতে সব ব্যবস্থা নেয়া একান্ত আবশ্যক।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

সুমনা ইয়াসমিন : অধ্যক্ষ, উত্তরা ইউনাইটেড কলেজ; সভাপতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, ঢাকা মহানগর উত্তর