লাগামহীন নিয়োগ দুর্নীতি

যোগ্য প্রার্থীর চাকরি নিশ্চিত করতে হবে

  সম্পাদকীয় ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লাগামহীন নিয়োগ দুর্নীতি

রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৮) সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থায় নিয়োগে দুর্নীতি-অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। দুদকের প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়েছে- নিয়োগে আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির ‘আঁতুড়ঘর’।

দুদকের কাছে নিয়োগ দুর্নীতির প্রচুর অভিযোগ আসে। এর সত্যতাও পেয়েছে দুদক। বস্তুত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে, তা নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ নেই।

খোদ সরকারের পক্ষ থেকেও দুর্নীতির অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়। দুর্নীতির বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। বলা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সূত্রপাত ঘটে শুরু থেকেই।

অর্থাৎ যারা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পায়, পরবর্তী সময়ে তারা আরও বেশি দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। একপর্যায়ে তারা ঘুষ-দুর্র্নীতির মাধ্যমে অন্যদের নিয়োগ দেয়। আর এভাবেই চলে আসছে দুর্নীতি। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির এই দুষ্টচক্রের কারণেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি রোধ করা যাচ্ছে না। দুর্নীতি দমন করতে চাইলে ভেঙে ফেলতে হবে এ দুষ্টচক্র।

অভিযোগ আছে, স্থানীয় দলীয় রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তি পর্যন্ত নিয়োগে ঘুষ-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেন। প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অভিযোগ শোনা যায়।

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণী অব্যাহতভাবে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণ প্রক্রিয়াও দুর্নীতিকে উসকে দিচ্ছে। জানা যায়, সরকারি চাকরিতে বেতন বৃদ্ধির পর এ ধরনের নিয়োগে অবৈধ অর্থের পরিমাণও বেড়ে গেছে।

তাই মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগের ক্ষেত্রেই অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বেশি।

বেশির ভাগ নিয়োগে ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতির কারণে বাদ পড়ছেন যোগ্য ও মেধাবীরা। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্যরা নিয়োগ পাওয়ার ফলে সক্ষমতা হারাচ্ছে প্রশাসন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়োগ নিয়ে আদালতের শরণাপন্নও হতে হচ্ছে চাকরিপ্রত্যাশীদের। এ পরিস্থিতি নিরসনে নিয়োগে আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি লাভ প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। যে বা যারা এই অধিকার হরণ করছে তারা গর্হিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। এ প্রবণতা বন্ধ করা দরকার কঠোরভাবে।

নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু সুপারিশ করে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে এক বা একাধিক সরকারি কর্মকমিশন গঠন করা যেতে পারে। এটি করা গেলে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

এক্ষেত্রে সংবিধানের ১৪০(১)(গ) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামোও প্রণয়নের সুযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি এখন বলতে গেলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে। এমন কোনো খাত নেই, যেখানে কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতি হচ্ছে না। আমরা মনে করি, দুর্নীতি রোধে সবার আগে নিয়োগ ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করা জরুরি।

নিয়োগে দুর্নীতি রোধ করা গেলে সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে। কাজেই নিয়োগ দুর্নীতি বন্ধে দুদকের সুপারিশগুলো আমলে নেয়া হবে, এটাই কাম্য।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×