তিনি যেভাবে হলেন ঐক্যের প্রতীক

  বিমল সরকার ১৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে যোগদান করে সাহস, যোগ্যতা ও কর্মস্পৃহা বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন।

নিজ যোগ্যতা, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ও দূরদর্শিতা তাকে অনন্যসাধারণ করে তুলেছে। শেখ হাসিনাকে একদিক থেকে পরম সৌভাগ্যবতী বলে মনে করি এ কারণে যে, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে এ পর্যন্ত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পৌনঃপুনিকভাবে সর্বোচ্চ মোট সাড়ে ১৫ বছর দেশ শাসনের সুযোগ পেয়েছেন, যা বর্তমান মেয়াদান্তে ২০ বছর পূর্ণ হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমাদের দেশে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি একনাগাড়ে সাড়ে ১০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন।

স্বাধীনতা লাভের পর দেশের আর্থ-সামাজিক ও প্রশাসনিক কাঠামোটি মজবুত হতে না হতেই স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার নিজ বাড়িতে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে জেলখানায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার ঘনিষ্ঠজনদের কাউকে কাউকে নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে যথাক্রমে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটে। দলের কেবল সাধারণ নেতাকর্মী নন, শীর্ষস্তরের নেতারাও বহুধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। ‘আওয়ামী লীগ’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবেই আরও রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার মতো নেতৃত্বের অভাবে কোনোভাবেই যখন দলের ঐক্যসাধন সম্ভব হচ্ছিল না, চারদিকে অন্ধকার ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে উঠছিল, তখনই নিবেদিতপ্রাণ কয়েকজন দূরদর্শী নেতার দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রতি। স্বামীর কর্মসূত্রে শেখ হাসিনা ও তার কনিষ্ঠ বোন শেখ রেহানা ১৯৭৫ সালে বিদেশে ছিলেন। তখনই ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং রাজনীতি ও প্রশাসনে নানা ঘটনাপ্রবাহ সংঘটিত হয়। শেখ হাসিনার সম্মতিতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তার অনুপস্থিতিতেই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়।

দীর্ঘ সাড়ে ছ’বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে স্বদেশে ফিরে আসেন। তাকে বহন করা বিমানটি ১৭ মে বিকাল ৩টায় ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় ঢাকা ও আশপাশে মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড় হচ্ছিল। বিমানবন্দরেই বঙ্গবন্ধুকন্যা ও দলের নতুন নেত্রীকে লাখো জনতা সংবর্ধনা প্রদান করে। অতঃপর বিকাল ৫টায় শেরেবাংলানগরে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় সমবেত জনস্রোতের সামনে বক্তৃতা দেয়ার সময় শেখ হাসিনা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগাপ্লুত শেখ হাসিনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আজকের জনসভায় লাখো চেনামুখ আমি দেখছি। শুধু নেই আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু, মা আর ভাইবোন, আরও অনেক প্রিয়জন। ভাই রাসেল আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আপা বলে ডাকবে না। সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন।’

শেখ হাসিনা যেদিন আওয়ামী লীগের মতো দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের গুরুদায়িত্বভার কাঁধে নেন তখন তার বয়স ছিল ৩৪। কিন্তু বেশ অনায়াসেই তিনি ৩৮ বছর ধরে সম্মানের সঙ্গে এ দায়িত্ব বহন করে চলেছেন। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এক ঝড়ো বিকেলে এ দেশের জনসাধারণের সঙ্গে সত্যিকার অর্থে শেখ হাসিনার পরিচয় ঘটে। আজ অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বে শেখ হাসিনার সাফল্য অসামান্য। আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন কামনা করি।

বিমল সরকার : কলেজ শিক্ষক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×