এইচএসসির বই বাজারজাতকরণ

এনসিটিবিকেই নির্ধারিত সময়ে কাজটি করতে হবে

  সম্পাদকীয় ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লাইব্রেরী

সরকার উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) তিনটি বই প্রকাশকদের মাধ্যমে বাজারজাত করে থাকে। এই তিনটি বই হল- বাংলা, বাংলা সহপাঠ ও ইংরেজি। এইচএসসির ক্লাস শুরু হতে মাত্র দেড় মাস বাকি, অথচ তিনটি বইয়ের সংশোধন ও মুদ্রণ এবং বাজারজাতের টেন্ডার প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়নি। যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর ধরে এ কাজ পেয়ে আসছে, নকল বই বাজারজাতকরণ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্জন করেছে। এবার চারটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নিয়েছে।

এগুলোর দুটি একেবারেই নবীন, বাকি দুটির বিরুদ্ধে নকল বই বাজারজাতের অভিযোগ রয়েছে। সমস্যা আরও আছে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে সাড়ে ১৭ লাখ শিক্ষার্থী। কিন্তু জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ৯ লাখ বই মুদ্রণ ও বাজারজাতের টেন্ডার দিয়েছে। ফলে একদিকে বাকি ৯ লাখ বই নকলের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে এর ফলে সরকার অন্তত দুই কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে বসেছে।

এনসিটিবি মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠ্যবই বাজারজাতের যে ব্যবস্থা করেছে, তাতে নানা ধরনের সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করা প্রায় দুঃসাধ্য। ফলে বাজারে বইয়ের কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে। পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়নি, হচ্ছে না। বাংলা ও ইংরেজি বইয়ের বিষয়বস্তুর ওপর ট্রাইআউট অর্থাৎ সারা দেশের শিক্ষকদের মতামত নেয়া শেষ হয়েছে দু’বছর আগে। এই ট্রাইআউটের ভিত্তিতে উভয় বইয়ের বিষয়বস্তু সংশোধন করে তা হালনাগাদ করার কথা থাকলেও গত দু’বছরেও তা করা হয়নি।

প্রশ্ন হচ্ছে, এনসিটিবির কার্যক্রমে কেন এই হযবরল অবস্থা? সংস্থাটির চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেছেন, টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনটি নকলবাজ আর কোনটি তা নয়- নাম দেখে বোঝা সম্ভব নয়। কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সারা দেশে সময়মতো বাজারজাত করতে পারবে কি না, তা-ও নাকি আগাম বোঝা সম্ভব নয়। আমাদের কথা হল, অজুহাত একটা দাঁড় করালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

‘বোঝা সম্ভব হয়নি’ ধরনের বাক্য ব্যবহার করে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটানোর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ফল দেখতে চাই, কার্যকারণ বোঝার অবকাশ নেই। বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধানও বের করতে হবে এনসিটিবিকেই। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা হল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশোধিত আকারে পাঠ্যবই হাতে পাওয়া চাই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×