রূপপুর প্রকল্পে কেনাকাটায় অনিয়ম: স্বচ্ছ ও মানসম্মত তদন্ত হতে হবে

  যুগান্তর সম্পাদকীয় ২০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি আবাসিক গ্রিনসিটি ভবনের আসবাবপত্র কেনাকাটা ও সেগুলো ভবনে তোলার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি এ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের জন্য কেনা বালিশের দাম ও তা উত্তোলনে অস্বাভাবিক ব্যয়ের খবর ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং এতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সরকারি তথা জনগণের করের অর্থের অপচয় রোধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী।

জানা যায়, রূপপুর আণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ার নাগরিক ও দেশের কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য গ্রিনসিটি নামে ২০ ও ১৬ তলার দুটি ভবন তৈরি করা হয়। এসব ভবনের জন্য কেনা আসবাবপত্রের যেসব দাম দেখানো হয় তাতে যে কারও চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাওয়ার কথা। এতে প্রতিটি বালিশ কেনার জন্য ৯ হাজার ৯৫৭ টাকা ও সেটি ভবনে তোলার জন্য সর্বোচ্চ ৭৬০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া একটি ইলেক্ট্রনিক কেটলির দাম ৫ হাজার ৩১৩ টাকা ও সেটি ফ্ল্যাটে উত্তোলন ব্যয় ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, একটি আয়রনের দাম ৪ হাজার ১৫৪ ও সেটি ফ্ল্যাটে তোলার খরচ ২ হাজার ৯৪৫ টাকা, ৯৪ হাজার ২৫০ টাকায় কেনা রেফ্রিজারেটরের ফ্ল্যাটে উঠানোর খরচ ১২ হাজার ৫২১ টাকা এবং ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় কেনা ওয়াশিং মেশিন ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা। এভাবে নানা আসবাবপত্রের দাম যেমন অনেক বেশি দেখানো হয়েছে, তেমনি সেগুলো ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয় দেখানো হয়েছে আকাশচুম্বী। তবে বালিশের দাম ও তা তোলার খরচ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এত বাড়াবাড়ি মূল্য ও তোলার ব্যয় দেখানো হয়েছে যে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

যেখানে ইলেক্ট্রনিক ও অন্যান্য আসবাবপত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা এসে ফ্ল্যাটে ফিটিং করে দিয়ে যায়, সেখানে এগুলোর উত্তোলন ব্যয় যা দেখানো হয়েছে তা যে পুকুর চুরি তাতে সন্দেহ নেই। আরও উদ্বেগের বিষয়, কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত পাবনার প্রকৌশলীরা এর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন এবং তারা বলছেন, মন্ত্রণালয় থেকে দরপত্র আহ্বান ও কেনাকাটার অনুমোদন হয়েছে। আমরা মনে করি, মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে যেমন পার পাওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি আগের মন্ত্রীর আমলের সিদ্ধান্ত বলেও এমন অনিয়মকে বৈধতা দেয়ার পথ খোঁজার যেন চেষ্টা না হয়, তা নিশ্চিত করা দরকার। সরকারি অর্থের অপচয়কে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।

বিভিন্ন সময় রূপপুর প্রকল্পে কর্মরতদের পারস্পরিক যোগসাজশে তৈরি ঠিকাদারের টেন্ডার দেয়া ও তাদের মাধ্যমে পণ্য কেনার কথা শোনা গেছে। স্বাভাবিক দামের কয়েকগুণ বেশিতে পণ্য কেনা ও ফ্রি ফিটিং করে দেয়ার স্থলে এমন অস্বাভাবিক ব্যয়ে সেগুলো উত্তোলনের ঘটনা থেকে যোগসাজশে কেনাকাটার ধারণা পাওয়া যায়।

এমন কেনাকাটা ও উত্তোলন ব্যয়কে রূপকথার গল্প বলছেন অভিজ্ঞরা। সত্যিই এটি রূপকথাকেও হার মানাচ্ছে। সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম রোধে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া না গেলে জনগণের অর্থ তছরুপ বাড়বে বৈ কমবে না। রূপপুর আণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমাদের গৌরবের নিদর্শন। কেন্দ্রটি চালু হওয়ার আগেই যারা একে কলঙ্কিত করছে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে, তাদের বিনা বিচারে পার পাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×