ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

  আর কে চৌধুরী ২০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা ক্যাম্প
রোহিঙ্গা ক্যম্প। ফাইল ছবি

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে ১২ লাখ অতিক্রম করেছে রেকর্ডসংখ্যক সন্তানদানের কারণে। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু এ জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা ২০ মাস আগে যখন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় তখন তাদের মধ্যে ৫০ হাজার নারীই ছিল সন্তানসম্ভবা। বাংলাদেশে প্রবেশের পর আরও লক্ষাধিক নারী সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

গত ২০ মাসেই টেকনাফের মানুষ এই অপ্রত্যাশিত অতিথিদের বিষয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ শিশু। বিপুল এই জনস্রোতের পরিষেবা জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। ক্রমাগত অপরাধকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ জন্মহার গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি হল ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট’, সেখানে একেকটি রোহিঙ্গা পরিবারের সন্তান সংখ্যা ৫ থেকে ১০। জন্মনিয়ন্ত্রণকে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের অধিকাংশই মনে করেন ‘পাপ কাজ’। তারা কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন না। পাশাপাশি রয়েছে বাল্যবিয়ের প্রচলন। কক্সবাজারবাসীর বক্তব্য, রোহিঙ্গাদের উপস্থিতিতে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। রাতে ঘুম হয় না ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। পাহাড়-পর্বত, ফসলি জমি- সব রোহিঙ্গার দখলে চলে গেছে। দিনের পর দিন তাদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে তাদের অপরাধের মাত্রাও। রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পর্যটনস্বর্গ কক্সবাজারের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এ জেলার পাহাড় ও বনভূমি অস্তিত্ব হারাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মাদক-সংশ্লিষ্টতায় বিপর্যস্ত হচ্ছে দেশ। এ হুমকির মোকাবেলায় মিয়ানমারের এ নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে হেলাফেলার অবকাশ নেই।

জাতিগতভাবে নিধনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে গত কয়েক দশক ধরে। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে নির্মমভাবে। সহিংসতায় প্রাণ হারায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা, ধর্ষণের শিকার হয় অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী। সহিংসতার ঘটনায় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকেই আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে।

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ দিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত তা শুরু হয়নি। এমনকি কবে শুরু হবে তাও নির্দিষ্ট করে জানা যাচ্ছে না। কাজেই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু বা সম্পন্ন হওয়া নিয়ে একটা বড় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আশার কথা, আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তৎপর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া সফরে এসেছেন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার তদারক কাজে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সম্পৃক্ত করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ঘনীভূত হচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে বৈঠকও হয়েছে। আমরা চাই, শুধু বৈঠক আর আলোচনাতেই যেন তৎপরতা সীমাবদ্ধ থেকে না যায়। প্রস্তুতিমূলক সব কাজ অতি দ্রুত সম্পন্ন করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার। অন্যদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার পাশাপাশি সেদেশে তাদের নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও জরুরি। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক, মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×