চালু হোক নাগরিক পেনশন

  জাকারিয়া স্বাধীন ২২ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চালু হোক নাগরিক পেনশন

সভ্যতার গুরু হিসেবে পরিচিত সক্রেটিস যখন শাশ্বত সত্য এবং মানুষের কল্যাণ উপলব্ধি করলেন, তখন তিনি গেলেন মানুষের কাছে। জানলেন তাদের অভিমত এবং বুঝলেন জ্ঞানের পরিধি।

এরপর প্লেটো মানুষের সামষ্টিক কল্যাণ সাধনে তুলে ধরলেন তার আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা। সেই থেকে রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আজ কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা প্রতিষ্ঠিত।

কল্যাণ রাষ্ট্রের বহুল প্রচলিত একটি নির্ণায়ক হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টার পরও দেখা যায় দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময় ভীষণ অসহায় হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে যখন কোনো নাগরিক তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন সেই ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে হয়ে পড়ে বোঝাস্বরূপ। একজন নাগরিককে এই অবমাননাকর অসহায়ত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে নাগরিক পেনশন।

একটি শিশুর জন্মের এক বছর হলে রাষ্ট্র তাকে একটি ব্যাংক হিসাব উপহার দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেয়া যেতে পারে মোটামুটি সম্মানজনক পরিমাণ অর্থ। অবশ্যই ব্যাংক হিসাবটি মায়ের নামে যৌথভাবে খোলা হবে। যদিও মা কোনোভাবেই এ অর্থ ভোগ করার সুযোগ পাবে না। যেহেতু মা নিজেই স্ব পেনশন ভোগ করবে।

অভিভাবকরা সন্তানের কল্যাণে এ হিসাবে অর্থ জমা করবে। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে জানবে এবং ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রও পাঁচ বছর পরপর এ হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উপহার দেবে। হিসাবের মালিক পেশাগত জীবনে প্রবেশ করে তার সাধ্যমতো প্রতি মাসে কিছু টাকা জমা করবে।

ব্যক্তি তার ১৮ বছর হওয়ার পর বিশেষ প্রয়োজনে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন করতে পারবে। এভাবে তার ৬০ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের উপহার এবং ব্যক্তির জমা মিলে একটি ভালো পরিমাণ অর্থের সঞ্চয় হবে, যা পরবর্তী জীবনে মাসিক পেনশন হিসেবে ব্যক্তি ভোগ করবে।

তখন রাষ্ট্র প্রতি মাসে নাগরিক পেনশন হিসেবে এর সঙ্গে নির্দিষ্ট অর্থ ভাতা প্রদান করবে। যদি কোনো নাগরিক এই পেনশন ভোগ করার আগেই মারা যায়, তাহলে তার অবশিষ্ট অর্থ ওয়ারিশদের অনুরূপ ব্যাংক হিসাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে স্থানান্তরিত হবে।

নাগরিক পেনশনের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক তার শেষ জীবন সম্মান ও সচ্ছলতার সঙ্গে অতিবাহিত করতে পারবে। এর ফলে সব নাগরিকের বৃহত্তর কল্যাণ সাধন সম্ভব হবে।

জাকারিয়া স্বাধীন : লেখক ও গবেষক

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×