বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়

ভারত রাষ্ট্রের মূলনীতি অপরিবর্তিত থাকুক

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে।

নির্বাচনী ফলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষেই ভারতীয় জনগণের সুস্পষ্ট রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। বস্তুত এক্সিট পোলেই এর আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারণায় বিজেপি এবারও মিডিয়া ও কর্পোরেট হাউসগুলোর সমর্থন পেয়েছিল ব্যাপকভাবে। তবে জনগণের সিদ্ধান্তই নির্বাচনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে, এ সত্য মানতেই হবে। ভারতীয় জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা নির্বাচনে বিজয়ী বিজেপিসহ এনডিএ জোটকে অভিনন্দন জানাই।

কয়েক মাস আগে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। তাই ধারণা করা হচ্ছিল, এবার লোকসভা নির্বাচনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে দলটি। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ ২০১৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি আসন পেলেও এনডিএ জোটের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি।

নির্বাচনে ভারতজুড়ে দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের উত্থান লক্ষণীয়। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত এগিয়ে থাকলেও বিজেপির সঙ্গে লড়াই চলছে হাড্ডাহাড্ডি।

স্বভাবতই ভারতের মতো একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতিতে এ প্রবণতা দেশটির ভেতরে-বাইরে বড় একটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে : যে বহু মত, পথ, ভাষা, ধর্ম, জাতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ওপর ভিত্তি করে ভারত রাষ্ট্রটি দাঁড়িয়ে আছে- সেই আদর্শের বিরুদ্ধপন্থীদের উত্থান দেশটিকে কোথায় নিয়ে যাবে?

আমরা আশা করব, ভারত তার মূলনীতি থেকে সরে আসবে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। বর্তমান বিশ্বে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ রেখে শুধু নিজ দেশের জনপ্রিয়তা দিয়ে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যায় না।

ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নানা বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। ভারতে সাম্প্রদায়িকতাপ্রসূত কোনো ঘটনা ঘটলে এ দেশে তার প্রতিক্রিয়া হয়।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের তিন দিকেই ভারতের অবস্থান হওয়ায় দেশটির সঙ্গে আমাদের রয়েছে বিশাল সীমান্ত এলাকা। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত প্রায় সব নদীর উৎস ভারতে।

এ বিষয়গুলো সরাসরি দু’দেশের সম্পর্ক নির্ধারণ করে। এর বাইরেও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা বিষয় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে প্রভাবিত করে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসার ঘটেছে অনেকটাই। ভারতে মোদি সরকার আসার পর দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান আজও হয়নি।

বন্ধ হয়নি সীমান্তে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা। আমরা স্বভাবতই চাইব, নরেন্দ্র মোদির এবারের শাসনামলে এ সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। ভারতের শাসনক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।

ভারতের কোনো বিশেষ দল নয়, ভারত রাষ্ট্র তথা জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় এ দেশের মানুষ। অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধানের মাধ্যমে সেটা সম্ভব হতে পারে।

নরেন্দ্র মোদির নতুন মেয়াদেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় থাকবে এবং তা আরও প্রসারিত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।