পাখি না থাকলে বন থাকবে না

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

প্রকৃতি, পরিবেশ ও বনের জন্য পাখি অপরিহার্য। পাখির সংখ্যা যেখানে কম, সেখানে প্রকৃতি মৃতপ্রায়। প্রকৃতির সৌন্দর্যেও পাখির ভূমিকা অনেক।

পাখির কিচিরমিচির ডাক, চঞ্চলতা, বৈচিত্র্যময় জীবন কার না পছন্দ। একসময় এ দেশে প্রচুর পাখি ছিল। কারণ এখানকার আবহাওয়া পাখির বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক।

দুখঃজনক তো বটেই, একই সঙ্গে বিপদের একটি আগাম বার্তা হল, প্রকৃতিতে আগের মতো পাখি নেই। অসংখ্য পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

অনেক পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে। গত ১৫ বছরে অন্য প্রাণীর তুলনায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির হার সবচেয়ে বেশি। আগে এ দেশে ৫৬৬ প্রজাতির পাখি ছিল।

এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ২০১৪-২০১৫ সালের বন ও পরিবেশ বিভাগের তালিকায় এ তথ্য রয়েছে।

বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখির মধ্যে আছে দাগিডানা, সারল, ধূসর মেটে তিতির, বালি হাঁস, গোলাপি হাঁস, বড় হাড়গিলা, ধলাপেট বগ, সাদাফোঁটা গগন রেড, রাজ শকুন, দাগি বুক টিয়াটুটি, লাল মাথা টিয়াটুটি, গাছ আঁচড়া, সবুজ ময়ূর ইত্যাদি। যে পাখিগুলো আগে খুব দেখা যেত, এখন কম দেখা যায় সেগুলো হল- দোয়েল, টিয়া, ময়না, বুলবুলি, চড়াই, শ্যামা, শালিক, টুনটুনি, ঘুঘু, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, কোকিল, চন্দনা, সাদা বক, কালিম, ডানা ঘুরানি, বউ কথা কও, বাবুই ইত্যাদি।

মূলত নির্বিচার বৃক্ষনিধন এবং জমিতে ব্যাপক কীটনাশক প্রয়োগের কারণেই পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। বাড়ি ও কলকারখানা নির্মাণ, সড়ক সম্প্রসারণ ইত্যাদি কারণে গাছ কেটে সাবাড় করা হয়।

যে হারে গাছ কাটা হয় তার সিকি ভাগও লাগানো হয় না। কৃষক বুঝে হোক না বুঝে হোক, জমিতে কীটনাশক, সার ব্যবহার করছে। যে কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য দরকার খাদ্য ও আবাসস্থল। গাছ কাটায় পাখি আবাসস্থল হারাচ্ছে। জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ছোট মাছ, পোকামাকড় মারা যায়। ফলে নিরাপদ খাদ্য তো পাখি পাচ্ছেই না, আবার বিষযুক্ত খাদ্য খেয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। বংশবৃদ্ধি দূরের কথা, টিকে থাকাই পাখিদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

নানা প্রতিকূলতার মাঝেও অল্প কিছু বন্যপাখি টিকে আছে। তবে তাও কতদিন থাকবে বলা মুশকিল। একদল অসাধু মানুষ বন্যপাখি ধরছে, হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। রাজধানীর মিরপুর-১, কাফরুল, টঙ্গী হাটে প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রি হয়। স্থানীয় প্রশাসন নীরব। অভিযোগ আছে, কিছু রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় আর প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বন্যপাখি বিক্রি হচ্ছে। অথচ বন্যপ্রাণী ধরা ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ।

পাখি বন তৈরি করে। বনের ক্ষতি পূরণ করে। পাখির কল্যাণেই বন গড়ে ওঠে। পাখি না থাকলে বন থাকবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

গাছের বীজ নিয়ে পাখি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে, যেটা পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ পারে না। পাখির ফেলে দেয়া বীজ থেকে হয় গাছ। গাছের পাতা খেয়ে থাকে পোকামাকড়। আবার পোকামাকড় খেয়ে গাছের পাতাকে রক্ষা করে পাখি। গাছের পাতায় গাছ খাদ্য তৈরি করে থাকে। এভাবেই পাখি বন ও পরিবেশকে রক্ষা করে।

গাছ লাগানোর কথা যুগ যুগ ধরে বলা হচ্ছে। হাজারো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে; কিন্তু বনভূমির সংখ্যা বাড়ছে না। গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

অন্ধ আবেগ নয়, বাস্তবতা মাথায় রেখে বনের পাখি বাঁচাতে হবে। এজন্য যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়া এখন সময়ের দাবি।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান : বন, পরিবেশ ও পাখি বিষয়ের লেখক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×