সাতক্ষীরায় হাসপাতালে অর্থ লোপাট

সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হোন

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ লোপাট

১৭ কোটি টাকার কেনাকাটার মধ্যে ১২ কোটি টাকাই লোপাটের ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালে। শুধু তাই নয়, সাত কোটি টাকা ব্যয়ে যে মেডিকেল সফটওয়্যার কেনার দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

এমনকি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের খোদ তত্ত্বাবধায়কই তদন্তকারীদের বলতে পারেননি পিকচার আর্কাইভিং কমিউনিকেশন সিস্টেম (পিএসিএস) নামের সফটওয়্যারটির কাজ কী।

বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের কেনাকাটার জন্য ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পিএসিএস সফটওয়্যার ক্রয় এবং বাকি ১০ কোটি টাকায় অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জাম কেনার কথা। কিন্তু এর মধ্যে উল্লেখিত সফটওয়্যারটির ব্যবহারই বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া দামি এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিনে এমনিতেই সফটওয়্যারটি ইনস্টল করা থাকে।

অন্যথায় আলাদা কিনতে গেলে এক থেকে সোয়া কোটি টাকায় এটি কেনা যায়। বোঝা যাচ্ছে, এটি কেনার নাম করে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে দুর্নীতিবাজরা। একইসঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের দাম দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা।

বস্তুত সরকারি কেনাকাটায় প্রায়ই বড় ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে এবং জনগণের করের অর্থ লোপাট হচ্ছে দেদারসে, যার একটি বড় উদাহরণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকল্পের কেনাকাটার ঘটনা। সেখানে একটি বালিশের দাম ৯ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ভবনে তোলার জন্য ৭৬০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এমন দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে যে প্রবৃদ্ধির বড় একটি অংশ নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। পরিতাপের বিষয় হল, যে কোনো ক্ষেত্রে বড় দুর্নীতি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্টরা বলেন, উপরের নির্দেশেই এমনটি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও এমনটি বলেছেন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটার প্রস্তাব আসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জেলা সিভিল সার্জনের কাছ থেকে। মূলত দুর্নীতিবাজরা অনিয়ম-দুর্নীতি করে ধরা পড়ে গেলে উপরের নির্দেশ বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। তবে উপরের মহলের যে আদৌ কোনো দায় নেই, তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশে সরকারি কেনাকাটা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়, তা বন্ধ করা গেলে আমাদের অর্থনীতির চেহারা বদলে যেত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বর্তমানে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। অনিয়ম-দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার মাধ্যমে এ অগ্রযাত্রা দ্রুততর ও মসৃণ হতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন চুনোপুঁটিদের পেছনে পড়ে না থেকে সরকারি কেনাকাটায় ও অন্যান্য খাতের বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে এবং সরকারের শীর্ষ মহল কঠোর মনোভাব দেখালে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×