ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করুন

  জয় পাল ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভিক্ষাবৃত্তি

একটি সমাজে নানা পেশা-শ্রেণীর মানুষ বসবাস করে। কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউবা শ্রমিক ইত্যাদি। এই মানুষগুলো প্রতিনিয়ত শ্রম ও সেবা প্রদান করে এবং বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করে। অর্থাৎ নিজেদের কর্মের ওপর ভিত্তি করেই তারা জীবন নির্বাহ করে।

সেবা ও কর্মের বিনিময়ে অর্থ, অর্থের বিনিময়ে সেবা। কিন্তু প্রতিটি সমাজব্যবস্থায়ই কিছু মানুষ রয়েছে, যারা সেবা উৎপাদন না করেই অর্থ গ্রহণ করে। অবশ্য এ প্রক্রিয়াটি প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভিন্ন। ভিক্ষাবৃত্তিকে যদি আমি-আপনি এক ধরনের পেশা হিসেবে বিবেচনা করি, তাহলে লক্ষ করব যে এটি পুরোপুরি উৎপাদনবিমুখ একটি পেশা। সেক্ষেত্রে অনেকেই একে পেশা বলতে নারাজ।

যা হোক, ভিক্ষা যে একশ্রেণীর মানুষের বৃত্তি বা পেশা এবং তারা যে এর ওপর ভিত্তি করে জীবন নির্বাহ করে, তা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। ভিক্ষাবৃত্তি নিঃসন্দেহে একটি দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এই বৃত্তি বা পেশা গোটা জাতির জন্য অভিশাপস্বরূপ। তাহলে এ থেকে কি দেশ ও জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব? হয়তো সম্ভব।

আমাদের চারপাশে একটু ভালো করে দৃষ্টি রাখলেই দেখতে পাব, রাস্তায় ভিক্ষুকদের বেশিরভাগই প্রতিবন্ধী। তাদের কেউ অন্ধ, কেউবা পঙ্গু। আবার অনেকে শারীরিক শ্রম দিতে অক্ষম বয়োবৃদ্ধ নারী ও পুরুষ। অনেক সময় সুস্থ সবল ছোট্ট শিশুদেরও রাস্তায় ভিক্ষা করার মতো করুণ দৃশ্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। যে শিশুদের স্কুলে গিয়ে বর্ণমালার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কথা, তাদের রাস্তায় রাস্তায় থালা হাতে নিয়ে ঘুরতে হয়! এটা নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক যে অনেক কর্মক্ষম নারী-পুরুষকেও ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখা যায়, যারা চাইলেই নিজেদের ঘাম ঝরানো শ্রমে ন্যূনতম জীবনমান বজায় রেখে বেঁচে থাকতে পারে।

এটা স্পষ্ট যে, সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশ উন্নয়নের গতিধারা বজায় রেখে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতিও বেশ টেকসই। দেশ উন্নত হচ্ছে, চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে, শিক্ষার আলোও ছড়িয়ে পড়ছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে; শুধু ভিক্ষুকরাই রাস্তায় ঘুরেফিরে ভিক্ষা করছে। দেশের উন্নয়নের স্রোতধারার ওরাও যে একটা অংশ হতে পারে, তা আমরা প্রায় ভুলতে বসেছি।

তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভিক্ষাবৃত্তি রোধে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। তাছাড়া প্রতিবন্ধী ও বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুকদের সরাসরি সরকারি সেবার আওতায় এনে ওদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের মাধ্যমে জীবনের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সেবামূলক বেসরকারি সংস্থাগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

জয় পাল : শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×