আওয়ামী লীগ নেতার স্বেচ্ছাচারিতা

দলীয় ভেদ-পরিচয় ভুলে শাস্তি নিশ্চিত করুন

  সম্পাদকীয় ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাতের আঁধারে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ পিলার ও দেয়াল অপসারণের সংবাদ উদ্বেগজনক। জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকানের পরিসর বাড়াতে গিয়ে এ অপকর্মটি করেছেন।
ফাইল ছবি

রাতের আঁধারে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ পিলার ও দেয়াল অপসারণের সংবাদ উদ্বেগজনক। জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন নেতা স্ত্রীর মালিকানাধীন দোকানের পরিসর বাড়াতে গিয়ে এ অপকর্মটি করেছেন।

ঐতিহাসিক স্থাপনা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ভার বহনকারী মূল দুটি পিলারের একটি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ ফুট দেয়াল ভেঙে সরিয়ে ফেলায় মূল মসজিদ ভবনের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য এবং এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দোষীরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্তাব্যক্তিকে ম্যানেজ করায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ থাকলেও দোকানের বরাদ্দ বাতিল করা হচ্ছে না। উপরন্তু তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাকি নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এ এক আশ্চর্য ঘটনাই বটে!

একজন দুর্বৃত্ত স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থে গুরুতর অন্যায় করার পর তার শাস্তি নিশ্চিত করা তো যাচ্ছেই না; বরঞ্চ যারা এটিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সেই তদন্ত কমিটির সদস্যরা হয়রানি ও মানসিক যাতনার শিকার হচ্ছেন! কোনো ভাড়াটিয়ার এ ধরনের কার্যকলাপ নিঃসন্দেহে চুক্তিপত্রের মারাত্মক লঙ্ঘন। চুক্তির শর্তভঙ্গের কারণে কেবল ওই দোকানের বরাদ্দ বাতিল নয়; একইসঙ্গে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

দলীয় কর্মী, নেতা ও ক্যাডার পরিচয়ে দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এজন্য দায়ী মূলত রাজনীতির বর্তমান ধারা। দেখা গেছে, কোনো দল ক্ষমতাসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও ক্যাডারদের দৌরাত্ম্য মারাত্মক রকম বেড়ে যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয় দলীয় পরিচয় ও পেশিশক্তি প্রদর্শন করে।

সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও ক্যাডার পরিচয়ে প্রচলিত আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে কেউ নিজের খেয়াল-খুশি মতো যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার নিশ্চয়ই রাখেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও কম নয়। এজন্য দলীয়ভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান থাকা জরুরি।

তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পিলার অপসারণ ঘটনার কুশীলবের বহালতবিয়তে থাকা আশ্চর্যজনকই বটে!

গুরুতর অন্যায় করার পরও একজন অপরাধীর শাস্তি হচ্ছে না শুধু কি এই কারণে যে, তিনি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত? দলীয় নেতা-কর্মী ও ক্যাডার পরিচয়ে দুর্বৃত্তরা যদি অপকর্ম করার সার্টিফিকেট পেয়ে যায়, তাহলে সমাজে অরাজকতা এক সময় ভয়াবহ রূপ নেবে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হলে দলীয় ভেদ-পরিচয় ভুলে সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শতভাগ আন্তরিক হতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×