আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধায় নিয়োগবঞ্চিত চিকিৎসকরা

  ডা. মঈনুল হক রিকো ২৮ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পিএসসি
পিএসসি। ফাইল ছবি

৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রায় সাড়ে আট হাজার চিকিৎসককে নন-ক্যাডার খেতাব দিয়ে নিয়োগবঞ্চিত করে রেখেছে আমলাতন্ত্রের গোলকধাঁধা। অংশগ্রহণকারী যেসব নবীন চিকিৎসকের বয়সসীমা শেষ, তারা আর কোনো দিন রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ পাবে না।

জন্মেই তারা মৃত্যুকে করছে আলিঙ্গন। এ নিষ্ঠুরতার দায় কার?

সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী চিকিৎসার প্রয়োজনে এবং জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয় না। অপরদিকে পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেয়া হয় না। ৩৯তম বিসিএসে প্রায় সাড়ে আট হাজার চিকিৎসক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নন-ক্যাডার ঘোষণা দিয়ে রাখা হয়েছে, নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এ নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা জানে না কবে কখন ক্যাডারভুক্ত হবে এবং নিয়োগ পাবে। তারা যদি ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদেরকে ব্যর্থই বলতে হবে, নন-ক্যাডার কেন বলা হবে? অথচ সরকারি কর্ম কমিশন ফলাফল ঘোষণায় উল্লেখ করেছে, নন-ক্যাডারভুক্ত সব চিকিৎসক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

পদ শূন্য না থাকায় তাদের নিয়োগ না দিয়ে নন-ক্যাডার আওতাভুক্ত করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী থেকে অধিদফতরের মহাপরিচালক পর্যন্ত সবাই জানেন চিকিৎসকদের ব্যাপক পদ শূন্য আছে। পরস্পরবিরোধী এ অবস্থানে থেকে নবীন চিকিৎসকদের নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ কী?

ফলাফল ঘোষণায় কর্ম কমিশন থেকে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শূন্য পদের তালিকা তাদের কাছে এলে ঘোষিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকদের মধ্য থেকে ক্যাডারভুক্ত করে নিয়োগ দেয়া হবে।

৩৯তম বিসিএসে নন-ক্যাডার নামধারী উত্তীর্ণ সাড়ে আট হাজার চিকিৎসক তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তা ও হতাশায় নিমজ্জিত। মন্ত্রী, মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক- সবাই চুপ। কর্ম কমিশনের কাছে শূন্য পদের তালিকা কে পাঠাবে- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, এ বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

অথচ জেলা, উপজেলা হাসপাতাল ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাবে রোগীর ভোগান্তি চরমে। অন্য অনেক কিছুর অভাবের সঙ্গে চিকিৎসক ঘাটতি ভয়াবহ এক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

চিকিৎসকদের পেশাগত সেবা দেয়ার সুযোগ করে না দেয়ায় রোগীদের চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। কর্ম কমিশন ও দুই মন্ত্রণালয় (জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য) চিকিৎসক নিয়োগ নিয়ে এক চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে রেখেছে।

এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কেবল তার নির্দেশনা পেলেই এ দুই মন্ত্রণালয় তৎপর হয়ে উঠবে এবং কর্ম কমিশন দশ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক নিয়োগ দেবে। অতীতে কেবল প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণেই কর্ম কমিশন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছে।

ডা. মঈনুল হক রিকো : চিকিৎসক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×