শিল্পে গ্যাস উন্মুক্ত

টেকসই সমাধানে নিতে হবে পদক্ষেপ

  সম্পাদকীয় ২৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পে গ্যাস উন্মুক্ত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকার আবারও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্পে গ্যাস সংযোগের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলো তাদের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিল্পকারখানার মালিকদের চাহিদা অনুসারে সরাসরি গ্যাস সংযোগ দিতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে নতুন অনেক উদ্যোক্তা শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হবেন। এ

তে দেশে নতুন অনেক কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। এতদিন যেসব উদ্যোক্তা গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা চালু করতে পারেননি, তারা নতুন উদ্যমে আরও অনেক শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহী হবেন, এটা আশা করা যায়।

গত কয়েক বছরে দেশে গ্যাস সংকট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে, গ্যাসের অভাবে বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আবাসিকে গ্যাসের তীব্র সংকটও বহুল আলোচিত।

শিল্পকারখানা স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাসের সংযোগ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক উদ্যোক্তা। এমন তীব্র সংকট দূর হয়েছে আমদানিকৃত এলএনজির কারণে। এর মাধ্যমে গ্যাস সমস্যার সাময়িক সমাধান হয়েছে মাত্র।

এ ধরনের জরুরি খাতে আমদানির ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো উচিত। আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভর করে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। কারণ এলএনজির আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে দেশে গ্যাসের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

বর্তমানে বিভিন্ন দেশে এলএনজির চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আমাদের অনেক চড়া দামে এলএনজি আমদানি করতে হবে। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পেলে আমাদেরও সেই দামেই তা সংগ্রহ করতে হবে। ওই অবস্থায় অভ্যন্তরীণভাবেও গ্যাসের দাম বাড়বে।

ফলে শিল্পকারখানায় বেড়ে যাবে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়। কাজেই গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নতুন গ্যাসকূপ আবিষ্কারে মনোযোগী হতে হবে আমাদের।

গত এক দশকে দেশে গ্যাসের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়লেও এর বিপরীতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি। উন্নয়নশীল দেশে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের কাজে সাধারণত বিদেশি কোম্পানির সহায়তা নেয়া হয়ে থাকে।

এ ধরনের কাজে শুধু বিদেশিদের ওপর নির্ভর করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। ইতিমধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স তার সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। বাপেক্সের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হলে এ প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সমুদ্রসীমায় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

সরকার শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, এটাই কাম্য। এ সিদ্ধান্ত পুনরায় যেন কোনো দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×