জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

  নূর ইসলাম হাবিব ২৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রথম অংশ নেয় ১৯৯৩ সালে বসনিয়া-হারজেগোভিনায় ২৬ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণের মধ্য দিয়ে।

জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিমানবাহিনী ১৯৯৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দুটি বেল-২১২সহ প্রথমবারের মতো একটি এয়ার কন্টিনজেন্ট প্রেরণ করে ইউনিকম, কুয়েতে (United Nations Iraq-Kuwait Observer Mission- UNIKOM)। সেখানে প্রথম দলে ছিল ১৭ জন বিএএফ সদস্য।

২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাক যুদ্ধের শুরু পর্যন্ত বিমানবাহিনীর কন্টিনজেন্ট সেখানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। সেখানে বিমানবাহিনী কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম উন্নত মান ও শ্রেষ্ঠ উড্ডয়ন নিরাপত্তা রেকর্ডের কারণে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে।

২০০৩ সালের ২৫ অক্টোবর পূর্ব তিমুরেও বিমানবাহিনী দুটি বেল-২১২ ও ৭১ জন শান্তিরক্ষী প্রেরণ করে। এই মিশন ৭ জুন ২০০৫ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিল। পূর্ব তিমুরে বিএএফ সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

তাদের অসাধারণ সাফল্যের জন্য জাতিসংঘ বিএএফ কন্টিনজেন্টকে সার্টিফিকেট অব এক্সিলেন্স প্রদান করে। তাছাড়া তিনজন কর্মকর্তা ও দু’জন বিএএফ সদস্য ফোর্স কমান্ডারের কমেন্ডেশন সনদপত্র লাভ করেন।

বিমানবাহিনী ২০০৩ সালে কঙ্গোতে এয়ার ফিল্ড সাপোর্ট ইউনিট ও ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট পাঠায়। এ সময় বিমানবাহিনী সেখানে ৫টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারও মোতায়েন করে। বর্তমানে ৩৭৬ শান্তিরক্ষীসহ ৬টি হেলিকপ্টার ও একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান সেখানে মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য, কঙ্গোর খুব বিপদসংকুল পরিবেশে বিমানবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালনকালে হেলিকপ্টার ও এর পাইলটের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিদ্রোহী আক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে বিএএফ কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম কঙ্গোর শান্তিরক্ষায় একটি ব্রান্ড নাম হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। কঙ্গোতে বিএএফ এয়ারক্রাফট সাধারণত ইতুরি ব্রিগেডকে আকাশপথে পরিবহন সুবিধা দিয়ে থাকে।

২০০৯ সালে বিমানবাহিনী চাদে ৩টি বেল-২১২ হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। তবে জাতিসংঘ ও চাদ কর্তৃপক্ষের অসম্মতির কারণে এ মিশন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চাদের মিশন সমাপ্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আইভরি কোস্টে তিনটি বেল-২১২ হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। আইভরি কোস্টে রাজনৈতিক জটিল অবস্থায় একমাত্র বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অব্যাহতভাবে আকাশপথে পরিবহন সেবা প্রদান করে।

এ পর্যন্ত বিমানবাহিনীর ৬,৬০৮ জন শান্তিরক্ষী ২৭টি দেশে শান্তিরক্ষা মিশন সম্পন্ন করেছেন। এসব দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বসনিয়া, সোমালিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, হাইতি, লাইবেরিয়া, ডিআর কঙ্গো, ইরাক, সিয়েরা লিওন, কুয়েত, আইভরি কোস্ট, দক্ষিণ সুদান, মধ্য আফ্রিকা, চাদ, পশ্চিম সাহারা, লেবানন ও মালি।

বর্তমানে ৭টি দেশের শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর মোট ৪৯৯ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন। এগুলো হচ্ছে ডি আর কঙ্গো, লেবানন, পশ্চিম সাহারা, মধ্য আফ্রিকা, দক্ষিণ সুদান, দারফুর ও মালি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট ৮০ জন মহিলা অফিসার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সম্পন্ন করেছেন এবং ১৪ জন মহিলা অফিসার বর্তমানে মিশনে কর্মরত আছেন।

এ পর্যন্ত বিমানবাহিনীর পাঁচজন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শহীদ হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দু’জন মহিলা পাইলট জাতিসংঘ মিশনে প্রেরণ করে। এ দু’জন পাইলট বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে প্রথম সামরিক বৈমানিক। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পথিকৃত মহিলা বৈমানিকদ্বয় হলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাঈমা হক (বর্তমানে স্কোয়াড্রন লিডার) এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী।

শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো মহিলা বৈমানিক প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নারীর ক্ষমতায়নে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

স্কোয়াড্রন লিডার নাঈমা হক এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী কঙ্গোতে তাদের এক বছরের মিশন সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। এ দুই নারী বৈমানিক এক বছরের মিশন চলাকালে প্রত্যেকে প্রায় ১৫০ ঘণ্টা করে উড্ডয়ন করেছেন।

নূর ইসলাম হাবিব : সহকারী পরিচালক, আইএসপিআর

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×