বিশ্বকাপ ঘিরে আমাদের প্রত্যাশা

  মুহাম্মদ ইকবাল আজাদ ৩১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

খেলাধুলার জগতে বিশ্বকাপের আসর মানেই উত্তেজনামুখর জমজমাট পরিবেশ। হোক তা ফুটবল কিংবা ক্রিকেট। ফুটবলের মতো ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে এখন।

ইতালির মতো ফুটবলপ্রিয় দেশও আজ নিয়মিত ক্রিকেট খেলছে। তবে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এশিয়া। এবার ১২তম ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দশটি দেশের মধ্যে পাঁচটিই এশিয়া মহাদেশের।

এর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে। আফগানিস্তানও বাছাই পর্বে কোয়ালিফাই করে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি হলেও ক্রিকেট হল ক্রীড়াজগতের রাজা। দেশের সব শ্রেণীর মানুষ এখন ক্রিকেট দেখে আনন্দ পায়। চায়ের দোকানের আসর জমে ওঠে ক্রিকেট আলোচনায়। কখনও কখনও দেখা যায় রাস্তায় কিংবা ভার্সিটির টিএসসিতে বড় পর্দায় রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ দাঁড়িয়ে ক্রিকেট দেখছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান খুব বেশিদিনের নয়। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলে। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জেতার পুরস্কারস্বরূপ ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে টিম বাংলাদেশ। প্রথম বিশ্বকাপে তৎকালীন ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ২০০০ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ টেস্ট খেলুড়ে দেশের মর্যাদা লাভ করে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ একদিনের ক্রিকেটেই বেশি পারদর্শী। সদ্য প্রকাশিত আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে নতুনরূপে আবির্ভূত হয়। মাশরাফির নেতৃত্বে টাইগাররা আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড এবং শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ধরাশায়ী করে প্রথমবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। তখন থেকে ক্রিকেট বিশ্ব চিনে এক নতুন বাংলাদেশকে। নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয় করে নিজেদের সামর্থ্যরে জানান দেয়। পাশাপাশি র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ আটটি টিমের মধ্যে অবস্থান করে ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’ খেলার সুযোগ লাভ করে বাংলাদেশ। সাকিব-রিয়াদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশ কোনো বড় টুর্নামেন্টে প্রথমবার সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে রানার্সআপ, ২০১৭ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজে রানার্সআপ, ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে রানার্সআপ, ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে রানার্সআপ হওয়ার স্বাদ লাভ করে। অতঃপর ছয়বারের ব্যর্থতা কাটিয়ে এই মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা লাভ করে টাইগাররা।

ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন একটি পরিণত শক্তি। বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞের কাছে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল। যে কোনো দলকে নাকানি-চুবানি খাওয়ানোর সামর্থ্য রাখে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে টাইগাররা ভালো কিছু করবে বলে বিশ্বাস করেন দলের কোচ ও অধিনায়ক। ভক্তদের আশা, বাংলাদেশ অবশ্যই সেমিফাইনালে খেলবে এবং অনেকে বিশ্বাস করেন, টাইগাররা সোনার হরিণ ছিনিয়ে আনবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর ভক্তদের এহেন অগাধ বিশ্বাস ও প্রত্যাশা পুরো দলকে ভালো কিছু করতে অনুপ্রাণিত করবে।

মুহাম্মদ ইকবাল আজাদ : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×