দ্বিতীয় দফায়ও প্রশ্ন ফাঁস

কবে হবে শাপমোচন?

  যুগান্তর ডেস্ক    ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্ন ফাঁস

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায়ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন ফাঁসসহ অন্যান্য অভিযোগে পটুয়াখালী জেলায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র এবং মোবাইল ফোনের বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে সরবরাহ করা উত্তরপত্র উদ্ধারের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দু’জন উমেদারসহ ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৩৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। উল্লেখ্য, এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপের পরীক্ষায়ও প্রশ্ন ফাঁসের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রথম ধাপের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ পদক্ষেপ নিত, তাহলে হয়তো দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটত না। সম্প্রতি সিআইডি সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের আশ্বস্ত করেছিল, দেশের প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতাসহ অধিকাংশ জালিয়াতকে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এর ফলে প্রশ্ন ফাঁসের অভিশাপ থেকে জাতি অচিরেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস না হওয়ায় আমরা স্বভাবতই উৎফুল্ল হয়েছিলাম এই ভেবে যে, অবশেষে প্রশ্ন ফাঁসের কলঙ্ক থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু হা হতোস্মি! প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা পুরনো সেই দুর্ভাগ্যের কালকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বিসিএস থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, এমনকি স্কুল পর্যায়ে দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর বিভিন্ন দফতরে অনিয়ম-দুর্নীতির ওপর করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল- শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি ও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো প্রশ্ন ফাঁসের উৎস।

এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এ অপকর্মটি করে থাকেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্র। সরকার অবশ্য ইতিমধ্যে বিজি প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের একটি উৎস বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়, বাকি উৎসগুলো বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশ্ন ফাঁস কেবল অপরাধ নয়, একইসঙ্গে নৈতিকতাবিরোধী- এ বোধও প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে জাগ্রত করা জরুরি।

দুঃখজনক হল, প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের মধ্যে এখনও দায়সারা গোছের মনোভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বস্তুত প্রশাসনের একটি অসাধু চক্রকে ‘ম্যানেজ’ করে কিংবা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে সম্পৃক্ত করে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অপকর্মটি করা হচ্ছে। প্রশাসনযন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিয়ম মেনে চলা এবং আইন প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠ ও আন্তরিক না হয়, তাহলে কোনোদিনও দেশ থেকে নৈরাজ্য দূর হবে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে বেকারত্বের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ ও সৎ চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে যেমন তামাশা করা হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা ধ্বংসের বন্দোবস্তও পাকা করা হচ্ছে। এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় কথা, প্রশ্ন ফাঁসের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ‘হরিশংকরের গোয়াল’ বানিয়ে ফেলা হচ্ছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করব, এরপর থেকে দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আর একটি ঘটনাও ঘটবে না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী ও তৎপর হবে, এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×