দুধে ভেজাল

অপরাধীরা কোনো অজুহাতেই ক্ষমার যোগ্য নয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গতকাল ছিল বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান হচ্ছে প্রোটিন আর প্রোটিনের অন্যতম উৎস হল দুধ। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৯৪ লাখ টন দুধ উৎপাদন হলেও সেসব দুধে যেভাবে ভেজাল মেশানো হচ্ছে, তাতে একটি প্রশ্নই আমাদের তাড়িত করে আর তা হল- প্রোটিনের নামে আমরা আসলে কী খাচ্ছি? ভাবা যায়, দুধে মেশানো হচ্ছে ইউরিয়া, রং ও ডিটারজেন্টের মতো ক্ষতিকর উপাদান! ওদিকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে যে জরিপ চালানো হয়েছে, সেই জরিপে উঠে এসেছে আরেক ভয়াবহ চিত্র। সারা দেশ থেকে সংগৃহীত গাভীর খোলা দুধের ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩টিতেই বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর অণুজীব পাওয়া গেছে। অণুজৈবিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ৯৩টি নমুনায় টিপিসি ও কলিফরম ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া গেছে। একটি নমুনায় পাওয়া গেছে সালমোনেলা আর মানবদেহের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা মিলেছে ১৫ শতাংশ দুধে। ১৩ শতাংশ দুধে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি টেট্রাসাইক্লিন, ৯ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক এবং ৩ শতাংশে পাওয়া গেছে আফলাটক্সিন। অর্থাৎ আমরা দেখছি, দুধের নামে আমরা যা খাচ্ছি তা নানারকম ক্ষতিকারক উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয়েই বাজারে আসছে। বলতেই হবে, দুধে এসব ভেজাল মেশাচ্ছেন যারা, তারা এমন এক অপরাধে লিপ্ত, যাদের কোনো অজুহাতেই ক্ষমা করা যায় না।

পুষ্টিবিজ্ঞান অনুযায়ী, প্রাণিজ আমিষ হিসেবে দুধের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে অন্তত এক কাপ দুধ খাওয়া উচিত প্রত্যেকের। এটাই যখন পুষ্টিবিজ্ঞান, তখন সরকারের উচিত হবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা এবং বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত দুধের ভেজাল বন্ধ করে নিরাপদ দুধের জোগান নিশ্চিত করা। অন্যদিকে দুধে ভেজাল বন্ধে এখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সামাজিক সচেতনতা ও আন্দোলন রচনার। ভেজাল দুধ ও গাভীকে ভিটামিন নামক বিষাক্ত ওষুধ খাওয়া বন্ধে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলেই প্রতীয়মান হয়। আমরা আশা করব, সরকার ও জনগণ যৌথভাবে দুধে ভেজাল মেশানোর প্রক্রিয়া বন্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তা না হলে প্রতি বছর বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালনের কোনো তাৎপর্য থাকবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×