ঈদযাত্রায় সতর্ক থাকুন

  মো. আল আমিন নাহিদ ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন জাতীয় সমস্যা। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ঈদের সময় দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যায়। ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে সড়কে।

ফলে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ে বহুগুণ, যে কারণে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকের অসতর্কতা, অসচেতনতা, বেপরোয়া বা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালনা এবং ত্রুটিপূর্ণ সড়ক। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। যার ফলে দুর্ঘটনার ঘটনা বেড়ে যায়। এছাড়া ঈদের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে চালকরা অনেক সময় ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এটিও দুর্ঘটনার একটি কারণ। তাই চালকদের এ ব্যাপারে অধিক সচেতন হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অসুস্থ বা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো যাবে না।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ নিয়ম না মেনে ওভারটেকিং। ঈদের সময় যাত্রীর চাপ বাড়ার কারণে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চালকরা ওভারটেকিং করে বেশি। সাধারণত রাস্তায় ধীরগতির বাহনকে ওভারটেকিং করার প্রয়োজন পড়ে। এ সময় হর্ন বাজিয়ে সামনের গাড়িকে সংকেত দিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় সংকেত না দিয়ে একজন আরেকজনকে ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়, যার ফলে সামনের দিক থেকে আসা গাড়ি বের হতে না পেরে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাই যথাযথ নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে ওভারটেকিং করা উচিত।

ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে বাঁক থাকার কারণে সামনের দিক থেকে আসা গাড়ি দেখতে পাওয়া যায় না। ফলে দুটি গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রাস্তার পাশে হাটবাজার স্থাপন এবং ওভারব্রিজ না থাকাও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ। দুর্ঘটনার আরেকটি অন্যতম কারণ হল মহাসড়কগুলোতে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহন চলাচল। গতির তারতম্য থাকায় দ্রুতগতির গাড়ির সঙ্গে ধীরগতির গাড়ির ধাক্কা লাগলে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে সিএনজি, নসিমন-করিমন, লেগুনা- মহাসড়কে এ ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনবোধে তাদের জন্য আলাদা বা বিকল্প লেনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ চালকের মাদক গ্রহণ। ক্লান্তি দূর করার জন্য অনেক চালক মাদক গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং অদক্ষ চালকের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ির ছাদে বা পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী হয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে সামান্য দুর্ঘটনায় অধিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। প্রত্যেক মানুষের জীবনের সঙ্গে তার পরিবার জড়িত। একজন মানুষের অকাল মৃত্যুতে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে হুমকির সম্মুখীন। সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। দুর্ঘটনা রোধে মালিক, শ্রমিক, যাত্রী, সরকার- সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

মো. আল আমিন নাহিদ : সদস্য, রিসার্চ সেল, যাত্রী অধিকার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×