ঈদ হোক সাম্যের প্রতীক

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাজ্জাদ হোসেন

ঈদ হোক সাম্যের প্রতীক। ছবি: সংগৃহীত

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদকে ঘিরে পাড়ায়-মহল্লায় সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যায় এ দিনটি উদযাপনের জন্য। মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য। ঈদের দিন ভেদাভেদ ভুলে ঈদগাহে এক কাতারে নামাজ আদায় শেষে পরস্পর কোলাকুলি করে সবাই। উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সত্যিই কি সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে? সবারই কি সমান অংশগ্রহণ থাকে?

আমরা খুব সহজাতভাবে ঈদের নামাজ শেষে যখন বেরিয়ে পড়ি, অসংখ্য ছেঁড়া কাপড় পরিহিত মানুষকে হাত পাততে দেখি। তাদের চোখেমুখে থাকে সাহায্যের আকুতি। দেশে এখনও এমন হতদরিদ্র মানুষ আছে, যারা তিন বেলা খাবারের অর্থ জোগাড় করতে পারে না। ঈদে নতুন পোশাক কেনার সাধ্য তাদের থাকে না। দেশে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ পথশিশু রয়েছে।

তাদের ঠাঁই রেলস্টেশনে কিংবা বাস টার্মিনালে। তারা রাত পোহাবার অপেক্ষায় থাকে- কখন ভোরের সূর্যের মুখ দেখবে! নামতে হবে জীবন-জীবিকায়। প্রতিযোগিতা করতে হবে আরেক শিশুর সঙ্গে দুটি বোতল বেশি কুড়িয়ে দশটি টাকা বেশি রোজগারের জন্য। এসব অসহায় শিশু যখন বেড়ে উঠতে থাকে, তারা কখনও মৌলিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নামে না। ক্ষুধা পেটে আহারের সংস্থান করাটাই তাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্যে পরিণত হয়।

প্রত্যেক ঈদে ধনী-গরিব নির্বিশেষে এক কাতারে ঈদ উদযাপনের কথা প্রচার করা হয়ে থাকে উচ্চকণ্ঠে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বৈষম্যের দুয়ার ভাঙে না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে অতি ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ বৃদ্ধির দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষে। এর মানে হল, নিচের দিকে যারা আছেন তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি যতটা না হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি উন্নতি হচ্ছে উপরের দিকে যারা আছেন, তাদের। দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নতির দিকে ধাবিত হলেও এর সুফল সবাই পাচ্ছে না। সব কথার মাঝে লুকিয়ে থাকা বার্তাটা হল- ঈদ আনন্দ। আমরাই পারি সমাজে বিত্তবানদের পানে চেয়ে থাকা অসহায় ও এতিমদের মুখে হাসি ফোটাতে। তাদের দাবিগুলো আহামরি খুব বড় কিছু নয়।

তাদের হাসি কেনার দাম খুব একটা চড়া নয়। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অবহেলিত মায়েদের একটি করে শাড়ি দিয়ে কিংবা স্টেশনে পড়ে থাকা শিশুদের বস্ত্র দিয়ে তাদের মলিন মুখে হাসি জয় করার মতো প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। ঈদ শুধু আনন্দঘন পরিবেশের কথাই মনে করিয়ে দেয় না, বরং ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। বছর ঘুরে নানা সমস্যা, দুঃখ-বেদনা ভুলে মানুষ ঈদের দিন মিলিত হয়। এই মিলিত হওয়ার সুর তখনই প্রশান্তির হবে, যখন বিত্তবানরা অসহায়দের পাশে দাঁড়াবে। যখন প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবহেলিতদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। আমাদের সামান্য সৎ ইচ্ছা পুরো সমাজের চিত্রটাকে বদলে দিতে পারে।

সাজ্জাদ হোসেন : প্রাবন্ধিক