যক্ষ্মা নির্ণয়ে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি: ‘এন্ড টিবি’ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা হোক

  সম্পাদকীয় ০৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মরণব্যাধি যক্ষ্মা নির্ণয়ে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজিত ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি ইতিবাচক।
প্রতীকী ছবি

মরণব্যাধি যক্ষ্মা নির্ণয়ে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজিত ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি ইতিবাচক।

প্রাথমিকভাবে এক্সরে ও জিন এক্সপার্ট মেশিন সংযুক্ত বিশেষ ধরনের চারটি ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মধ্যে দুটি দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন যক্ষ্মাপ্রবণ এলাকা, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, কল-কারাখানা ও জেলখানার অধিবাসীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

বাকি দুটি দিয়ে কক্সবাজারে স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, সরকার যক্ষ্মা নির্মূল ও যক্ষ্মার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবেই চালু হতে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি বা মোবাইল ভ্যান কার্যক্রম।

যক্ষ্মা একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি এবং সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি চারপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগের বিষয় হল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যসহ নানা কারণে প্রতি বছর বিশ্বে অন্তত ১০ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন মানুষ এ রোগে মৃত্যুবরণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের যে ৩০টি দেশে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক, তার একটি হল বাংলাদেশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘এন্ড টিবি’ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আশঙ্কার বিষয় হল, দেশে এখনও কমপক্ষে ২৬ শতাংশ যক্ষ্মারোগী নির্ণয়ের বাইরে রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত ‘এন্ড টিবি’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হতে হলে যক্ষ্মারোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদানসহ সমন্বিত কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন জরুরি।

স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে বটে, তবে এ খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের বড় অংশই অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিত্যনতুন উদ্ভাবন, সংযোজন ও ন্যূনতম সেবার নিশ্চয়তা বিধানে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে খুবই কম। এ প্রবণতা স্বাস্থ্য খাতের জন্য টেকসই নয়, যা বলাই বাহুল্য। এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ, বিশেষত দরিদ্র জনগণ স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, যার প্রভাব পড়বে জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে। স্বাস্থ্য খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘এন্ড টিবি’ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×