প্রধানমন্ত্রীর ফিনল্যান্ড সফর

জলবায়ু ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন জরুরি

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সফর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ দিনের ফিনল্যান্ড সফরে জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আমাদের দাবির প্রতি ইউরোপের দেশটির সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন।

আশার কথা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছে ফিনল্যান্ড। এমনকি সমুদ্রের পানির স্তর এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে নিুাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ নিমজ্জিত হবে- প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ তথ্য জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে আমাদের কোনো দায় না থাকলেও আমরা এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছি।

বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার সমাধান এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল আদায় করে নিতে হবে। অবশ্য এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে; তারপরও বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলার পাশাপাশি ফিনিশ প্রেসিডেন্টের কাছে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃঢ় সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বস্তুত ২০১৭ সালে জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্বসহ তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই।

কারণ মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও আমাদের সীমিত সম্পদ, ভূখণ্ডগত অপ্রতুলতা এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় নিলে কোনোভাবেই এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দায়িত্ব নেয়া সম্ভব নয়। ২০১৭ সালের আগেও বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গারা নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং আমাদের ভূখণ্ডে রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জোর উদ্যোগ না নেয়ায় তাদের প্রত্যাবর্তনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া যায়নি।

এবারও মিয়ানমার নানা টালবাহানা করে রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়ার চক্রান্ত করছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীন, ভারত ও রাশিয়াও যাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তা নিশ্চিত করা দরকার। এরই মধ্যে গাম্বিয়ার উদ্যোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করা হয়েছে; ওআইসিও দেশটির বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ড সফরের আগে সৌদি আরবে ওআইসি সম্মেলনে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন। বিশ্ব সম্প্রদায় আন্তরিক ও সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে রোহিঙ্গা সমস্যার ফলপ্রসূ সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।

ফিনল্যান্ড সফরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারের নানা কার্যক্রম তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সফরেরই শুরুর দিকে জাপান ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা, রোহিঙ্গা সমস্যা, মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য ইত্যাদি নানা ইস্যুতে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের শীর্ষ নির্বাহীর বিদেশ সফর একটি রুটিন ওয়ার্ক।

এসব সফরে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ঘোষণা, চুক্তি ও এমওইউ স্বাক্ষরের পর সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তার দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর আদায় করা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলা, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×