শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে সাফল্য: শিশুর অন্যান্য অধিকারও সমুন্নত রাখতে হবে

  সম্পাদকীয় ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে সাফল্য: শিশুর অন্যান্য অধিকারও সমুন্নত রাখতে হবে
প্রতীকী ছবি

দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৬৩ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার সংবাদ ইতিবাচক। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে শিশুর মৃত্যুহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের সর্বস্তরে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া চিকিৎসা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি নারীশিক্ষার অগ্রগতির ফলেই মূলত শিশুমৃত্যুর হারে ব্যাপক এ পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। শিশুমৃত্যু হারের এ চিত্র আমাদের উৎফুল্ল করলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও বিনোদনের সুযোগসহ দেশের সার্বিক শিশু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে আমরা মনে করি।

ইতোপূর্বে ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশে স্কুলের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা ভারত ও শ্রীলংকার চেয়ে বেশি। দুঃখজনক হল, আইনগত বিধিনিষেধ থাকার পরও দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে না। শিশু স্কুলে না গিয়ে জীবিকার তাগিদে নানা ধরনের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থার পরির্বতন ঘটাতে হলে দারিদ্র্যদূরীকরণ ও ধনী-দরিদ্র বৈষম্য হ্রাসের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

১০টি মারাত্মক রোগ- হাম, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার, হুপিংকাশি, পোলিও, হেপাটাইটিস-বি, হিমো-ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি ও রুবেলা থেকে শিশুকে সুরক্ষা দিতে সারা দেশে বিনামূল্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এর বাইরে মা ও গর্ভের শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মহিলাদের ৫ ডোজ টিটি টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এসবই শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান ও পদ্ধতি এখন পর্যন্ত যুগোপযোগী ও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার দারিদ্র্যদূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পরিচালনা করলেও স্বাস্থ্য খাতে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে এবং এর ফলে নিম্নআয়ের মানুষ চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম হয়ে পড়ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকারবিষয়ক সনদ পাস হয়েছে এবং এ সনদ শিশুর কতগুলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নির্ধারণ করেছে, যেমন- শিশুর বেঁচে থাকা, শৈশবে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযত্ন ও সমাজকল্যাণ সংক্রান্ত অধিকার। শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসের এ সাফল্য টেকসই করতে সরকার শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত রাখার উদ্যোগ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×