মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকুক

  সম্পাদকীয় ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকুক
ফাইল ফটো

সারা দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ প্রেক্ষাপটে এসব প্রতিরোধে যাদের দায়িত্ব পালনের কথা, তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রাজধানীর প্রায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হয়।

নিয়মিত বাজার তদারকির ছয় মাসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। এই যখন রাজধানীর ফার্মেসিগুলোর অবস্থা তখন সারা দেশের ফার্মেসিগুলোতে কত ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

মেয়াদ ভালোভাবে যাচাই না করে ওষুধ ক্রয় করা উচিত নয়। তবে কোনো কোনো ওষুধের মোড়কসহ যেসব জায়গায় মেয়াদের উল্লেখ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই তা থাকে অস্পষ্ট। অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটি নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগ নিরাময়ে কোনো ভূমিকা না রাখলেও অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর প্রতিক্রিয়ায় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সেবনে রোগীর অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। অনেক দরিদ্র রোগী, যাদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা অসুস্থ হলে নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে থাকে। তখন ফার্মেসির কর্মচারীরা অনুমানের ওপর নির্ভর করে ওষুধ দিয়ে থাকে।

এসব ক্ষেত্রেও কোনো কোনো অসাধু কর্মচারী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করার চেষ্টা করে। ফার্মেসির কর্মচারীরা দরিদ্র রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে, এটি বুঝতে পেরেও তারা নিরুপায় হয়েই এভাবে ওষুধ সংগ্রহ করে।

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা না হলে নানা কৌশলে তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির চেষ্টা করবে।

যারা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরও এই চক্র সক্রিয় থাকায় এটাই স্পষ্ট যে, এদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিটি পণ্যই ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তাই কোনো ব্যবসায়ী যাতে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×