কনটেইনার জট: চট্টগ্রাম বন্দর সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখতে হবে

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

আমদানি পণ্যের কনটেইনার জট। ছবি: যুগান্তর

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার জটের দ্রুত নিরসন কাম্য। দেশের প্রধান এ বন্দরে সৃষ্ট কনটেইনার জট বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি আমদানি পণ্যের কনটেইনার জট নিরসনে দ্রুত ডেলিভারি এবং ‘অফ ডকে’ রফতানিযোগ্য কনটেইনার শিপমেন্ট স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাহাজ থেকে পণ্য স্বাভাবিকভাবে খালাস হলেও ঈদের ছুটিতে ডেলিভারি কম হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কনটেইনার জমে যাওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক।

বিশেষ করে এর ফলে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে।

এ অবস্থায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখা জরুরি। ঈদ বা অন্য কোনো কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে যাতে অচলাবস্থার সৃষ্টি না হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

উৎসব বা অন্য কোনো ছুটিকালীন ব্যবস্থাপনা এমন হওয়া উচিত, যাতে বন্দরের কাজকর্মে কোনোরকম ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়। এ লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধিসহ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করি আমরা।

উচ্চ প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। অবকাঠামো যত উন্নত হবে, প্রবৃদ্ধিও তত বাড়বে। এজন্য সমুদ্রবন্দর ছাড়াও সড়ক ও রেলসহ সব ধরনের অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। পঞ্চাশের দশকে মাথাপিছু গড় আয়ের দিক থেকে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও তাইওয়ানের তুলনায় বাংলাদেশ খুব একটা পিছিয়ে ছিল না।

কিন্তু ২০১৯ সালে এসে আমরা দেখতে পাচ্ছি- উল্লিখিত দেশগুলো, বিশেষ করে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও তাইওয়ান প্রভূত উন্নতি করেছে। সুপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার আওতায় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তথা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর দক্ষতা কাজে লাগাতে পারলে আমাদের পক্ষেও খুব সহজেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া সম্ভব।

সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করতে পারলে ঈদের ছুটি বা কোনো দুর্যোগে বন্দরে কোনোরকম ছন্দপতন ঘটবে না বলে আমরা মনে করি।