ধর্মীয় মূল্যবোধই হতে পারে রক্ষাকবচ

  এম এ মান্নান ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মীয় মূল্যবোধই হতে পারে রক্ষাকবচ

মানব সৃষ্টির ইতিহাসতত্ত্বে জানা যায়, মানবসভ্যতার সৃষ্টিলগ্নে মহান সৃষ্টিকর্তা, প্রিয় নবী হজরত আদমকে (আ.) প্রথম মানব হিসেবে সৃষ্টি করেছিলেন এবং তার ঐশীবাণীর মাধ্যমে তাকে সব ধরনের জ্ঞানদান করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে এ বিশ্বে বহু নবী-রাসূলের আবির্ভাব ঘটেছে। তারা সবাই সৃষ্টিকর্তার ঐশীবাণীসংবলিত ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে ধর্ম প্রচার, সমাজ সংস্কার ও মানবতার সেবা করে গেছেন।

ধর্মতত্ত্বে আমরা জানতে পারি, এ বিশ্বে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার, কোনো কোনো মতে ২ লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বর অর্থাৎ মহাপুরুষ-মহামানব-নবী-রাসূলের আবির্ভাব ঘটেছে। সব মহামানবই বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সত্য এবং সৎপথে পরিচালিত করার জন্য আমরণ চেষ্টা করে গেছেন।

যেসব জাতিগোষ্ঠী ধর্মের বিধান অনুসরণ ও অনুশাসনগুলো মেনে সৃষ্টিকর্তার সুপথে পরিচালিত হয়েছে, তারাই সভ্যজাতি হিসেবে সুখে-শান্তিতে জীবন নির্বাহ করতে পেরেছে। যে জাতিগোষ্ঠী স্বেচ্ছাচারিতায় সৃষ্টিকর্তার আদেশের বিরুদ্ধাচারণ করে বিকৃত-বিপথে চলতে চেয়েছে, তারা অশান্তিতে ভুগে অচিরেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

এতে আমরা দেখতে এবং বুঝতে পারি, ধর্ম মানবজীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। যে জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মের প্রভাব বেশি জোরালো ও শক্তিশালী ছিল, সেখানে সামাজিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সভ্যতার গুণাবলি বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তত বেশি।

ধর্ম কোনো সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করতে দেয় না, বরং সমাজে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সাম্যের সৃষ্টি করে। সময়ের বিবর্তনে যেসব ধর্মগ্রন্থ মহান আল্লাহতায়ালার প্রেরিত ঐশীবাণী হিসেবে প্রচারিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রতিটিই বিদ্যমান জাতিগোষ্ঠীর জন্য একেকটি সৎ বিধান হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত ধর্মের বাণীর মধ্যে এমনকিছু বিধান, আদর্শ, দর্শন ও নির্দেশনা রয়েছে, যা পালন করলে মানুষের মধ্যে সুদৃঢ় বিশ্বাস, ঐক্য, আস্থা ও শৃঙ্খলার উদ্ভব হয়। যার জন্য মানুষ বিপথে-বিকৃতপথে যেতে এবং অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার-ব্যভিচার করতে প্রচণ্ডভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

এ পর্যন্ত বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত সব ধর্মগ্রন্থেই প্রাণিজগৎসহ মানুষের জন্য কল্যাণ ও মঙ্গলের কথা বলা হয়েছে। যারা সঠিকভাবে ধর্মের বিষয়গুলো পালন করে, তারা কখনই অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে পারে না। ধর্ম কারও ওপর চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। মানুষ কোনো ধর্ম নিয়ে জন্মায় না।

মানবচরিত্র ও সভ্যতা গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্বভাব-চরিত্রে ধর্ম বিকশিত হতে থাকে। ধর্ম মানুষের জীবনকে গভীরভাবে আলোড়িত ও প্রভাবান্বিত করে এবং সৎপথে চলতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশ একটি ধর্মপরায়ণ দেশ। এখানে সব ধর্মের স্বাধীনতা রয়েছে এবং প্রায় ৯০ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী লোক বসবাস করে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নাজুক অবস্থার দিকে যাচ্ছে।

দেশে বর্তমানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বাহিনী নিয়োগ করেও অপরাধ দমনে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদিও প্রাণপণ চেষ্টা করে দেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন এবং দুর্নীতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন; কিন্তু দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নানা জটিল কারণে, বিশেষ করে ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মানুষের মন থেকে ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার ফলে সমাজে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

দিন দিন মানুষ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা দেশ ও সমাজের জন্য অশনিসংকেত। হত্যা, গুম, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, লুটপাট, মাদক ব্যবহার ও ধর্ষণ ইত্যাদি সমাজজীবনকে কলুষিত করে তছনছ করে দিচ্ছে। ভালোবাসা, স্নেহ-মততা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য দারুণভাবে অনুপস্থিত সমাজে। দেখা দিয়েছে মূল্যবোধের অবক্ষয়।

এমতাবস্থায় ধর্ম সব নাগরিকের জন্য এক সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। আমরা সবাই যদি ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে চলি, ধর্ম নির্দেশিত পথ অনুসরণ করি, তাহলে সমাজ থেকে সব ধরনের অনাচার দূর হতে বাধ্য।

ইঞ্জিনিয়ার এম এ মান্নান : মুক্তিযোদ্ধা; সাবেক পরিচালক, বিআরটিএ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×