বাজেট ২০১৯-২০: বাস্তবায়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা

  সম্পাদকীয় ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

জাতীয় বাজেটের আকার বছর বছর বৃদ্ধির ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে বৃহত্তম বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম এবং ১২তম ব্যক্তি হিসেবে অর্থমন্ত্রীর প্রথম ব্যক্তিগত বাজেট ঘোষণা।

উল্লেখ্য, এ সরকারের আগের মেয়াদে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী নিশ্চয়তা দিয়েছেন এই বলে যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে- এমন কোনো পদক্ষেপ প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষণা দেয়া হয়নি।

একইসঙ্গে তিনি এ কথাও বলেছেন- শুধু এক বছরের জন্য নয়; বস্তুত এবারের বাজেট তৈরি করা হয়েছে ২০৪১ সালকে টার্গেট করে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঙ্কের এ বাজেট সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সরকারকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে; অবশ্য এসব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থমন্ত্রী আগামী তিন বছরে প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৬ শতাংশের ঘরে নেয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

প্রতিবছর বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। সন্দেহ নেই, এর মধ্যে ‘লোক দেখানো’ একটি প্রবণতা থাকে; যে বৃত্ত-বলয় থেকে এবারও মুক্তি মেলেনি। এ কথা সর্বজনবিদিত, উন্নয়ন বাজেটের বিশাল আকার থাকলেও বছর শেষে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়।

এবারের বাজেটও এ ছক থেকে বের হতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইনটিতে অনেক সংশোধনী আনা হয়েছে।

ঘোষিত বাজেটকে এক ধরনের ‘মিশ্রণ’ অভিহিত করা চলে- যেখানে উচ্চাভিলাষ আছে, আছে সাহসী পদক্ষেপ, আবার একইসঙ্গে রয়েছে উদাসীনতাও। বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে রাজস্ব আদায়, অর্থ ব্যয় ও ঘাটতি অর্থায়ন- এ তিনটি বিষয় জড়িত।

বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবিত বাজেটের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছেন বটে; তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে করহার বৃদ্ধি করায় মধ্যবিত্ত শ্রেণী স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতীতের মতো এবারের প্রস্তাবিত বাজেটেও দারিদ্র্যকে সমূলে উৎপাটনের কথা উচ্চারিত হয়েছে; যদিও এজন্য স্পষ্ট কোনো গাইডলাইন দেয়া হয়নি।

‘সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ স্লোগান তুলে অর্থমন্ত্রী অবশ্য সর্বক্ষেত্রে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তবে শুধু স্বপ্ন দেখালেই হবে না, একইসঙ্গে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যে সক্ষমতা প্রয়োজন, সেটাও অর্জন করতে হবে।

দেশে বাজেট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল, যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। বাজেটের যথার্থ বাস্তবায়নে বরাদ্দ সঠিক সময়ে খাতগুলোতে পৌঁছাতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের সদ্ব্যবহারে প্রতিটি খাতে বাড়াতে হবে দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। রোধ করতে হবে অপচয়।

সংবিধানে বাজেট জনসাধারণ নিয়ন্ত্রণ করবে বলা হলেও বাজেট প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ। তাছাড়া সংসদে বাজেট নিয়ে অর্থবহ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। সংসদের বাইরে বিশেষজ্ঞরাও তাদের মতামত দেবেন। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

আমরা আশা করব, কর প্রস্তাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে যেসব সুপারিশ উঠে আসবে- যৌক্তিকতা বিচার করে বাজেটে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে সরকার দ্বিধা করবে না। নতুন অর্থবছরের বাজেট কেবল একগুচ্ছ অঙ্গীকারের বাজেট হিসেবে বিবেচিত হোক, এটা কখনও কাম্য হতে পারে না। বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পদক্ষেপে সরকারকে আন্তরিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×