অস্ট্রেলিয়ায় নেয়ার নামে প্রতারণা

  ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়া

ক’দিন আগে সিরাজগঞ্জ থেকে এক ব্যক্তি ফেসবুকে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি সিডনিপ্রবাসী এক লোককে দু’বছর আগে বাবার জমি বিক্রি করে ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা দিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছেন। অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী যাকে পাচ্ছেন ফেসবুকে ঘটনাটি জানাচ্ছেন।

জিজ্ঞেস করলাম, এতগুলো টাকা দিয়েছেন, লিখিত কোনো প্রমাণ আছে? উত্তরে জানালেন, ‘লিখিত প্রমাণ বলতে তিনি যেসব নম্বর থেকে কথা বলেছেন তার রেকর্ড আছে। সেখানে তারা কত টাকা নিয়েছে তার উল্লেখ আছে, ফেসবুকে মেসেজ আছে, স্কিন শর্ট দেয়া আছে।’

সিডনিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্যাক্সিচালক ওই লোকটি বাঙালি কমিউনিটিতে ‘টাউট’ নামে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ায় মানুষ আনার কোনো ক্ষমতাই তার নেই।

ক’দিন আগে ঢাকায় এক নারীর খোঁজ পেলাম। সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আসবে বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা নিয়েছে সিডনিপ্রবাসী আরেক প্রতারক, যিনি নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের বিরাট নেতা বলে সবার কাছে পরিচয় দেন। ওই নারীও কোনো লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়াই পুরো টাকাটা দিয়েছেন। টাকা দেয়ার প্রমাণ হিসেবে তার কাছে আছে কিছু ফোনালাপের অডিও রেকর্ড, ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাট এবং ই-মেইল।

ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে সিডনি নিয়ে আসবে বলে ঢাকার নবাবগঞ্জের এক গ্রামবাসীর কাছ থেকেও ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নিজেকে ‘ব্যারিস্টার’ হিসেবে পরিচয় প্রদানকারী সিডনিপ্রবাসী সেই একই প্রতারক।

একটি-দুটি নয়, প্রায়ই এরকম ঘটনা ঘটছে। সিডনির একটি বাঙালি চক্র ঢাকায় গিয়ে নিরীহ মানুষদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার নাম করে বিশাল এক প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে। অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে কোনোরকম লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়া লাখ লাখ টাকা দিয়ে এখন পথে বসেছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রতারকরা প্রতিনিয়ত নিজেদের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিচয়ের অপব্যবহার করছে।

অস্ট্রেলিয়া আসার ব্যাপারে ইমিগ্রেশনের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত দেয়া আছে। সুনির্দিষ্ট পেশার মানুষের ক্ষেত্রে স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে স্কিল্ড মাইগ্রেশনের আওতায় অস্ট্রেলিয়ায় আসা সম্ভব। বিজনেসসহ আরও কিছু ক্যাটাগরিতেও অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হিসেবে আসা যায়।

এছাড়া শরণার্থী হিসেবেও ভিসা পাওয়া যেতে পারে, তবে তা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আজকাল প্রায় অসম্ভব। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর নিজেকে জামায়াত-বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থক হিসেবে সরকারের নিপীড়নের শিকার দাবি করে শরণার্থী ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা শতকরা প্রায় শূন্যভাগ।

অস্ট্রেলিয়ায় আসার ব্যাপারে তাহলে করণীয় কী? শুরুতে আইনজীবী/ইমিগ্রেশন এজেন্ট ও তাদের ফার্মের ব্যাপারে ভালোভাবে খোঁজ নিন। অস্ট্রেলিয়ায় লোক নেয়ার নামে সিডনিতে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত প্রতারকদের এড়িয়ে চলুন। অস্ট্রেলিয়ায় যদি আপনার পরিচিত কেউ থাকে, তার মাধ্যমে এজেন্ট বা ফার্ম সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ নিন। তারপর অস্ট্রেলিয়ায় আসার ব্যাপারে শুরুতেই এজেন্টের সঙ্গে সব শর্ত উল্লেখ করে ইংরেজিতে চুক্তিপত্র করে নিন।

এজেন্টের সঙ্গে আলাপ করে বিস্তারিত জেনে নিন- আপনার ভিসা আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু এবং এর পক্ষে ওয়েবসাইটে প্রমাণ দেখতে চান। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

তবে মনে রাখবেন, ভিসা আবেদনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং আবেদন ব্যর্থ হলে আপিল করার ব্যাপারেও স্পষ্টভাবে আইনে সব লেখা আছে। এজেন্ট বা দালালের কথায় বিশ্বাস করেছেন তো নিশ্চিত ঠকেছেন।

শুরুতে ভিসা আবেদন ফিসহ সামান্য কিছু টাকা দিতে পারেন। বাকি টাকা কাজ সম্পন্ন না হলে দেবেন না। চুক্তিপত্রেও ব্যাপারটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকে। কোনো অবস্থায়ই লিখিত প্রমাণ ছাড়া ইমিগ্রেশন এজেন্ট বা তাদের দালালকে কোনো টাকা দেবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় আসার ব্যাপারে যাকে-তাকে বিশ্বাস করবেন না।

ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন : অস্ট্রেলিয়ার সিডনিপ্রবাসী শিক্ষক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×