সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট করা

প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি যেন কার্যে পরিণত হয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুদহার

ব্যাংক ঋণের সুদহার যাতে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হয় সেজন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ব্যাংক মালিকদের দাবিমতো তাদের অনেক সুবিধাও দেয়া হয়েছে।

যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমার পরিমাণ এক শতাংশে নামিয়ে আনা, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রাখা ইত্যাদি।

এ ছাড়া ব্যাংক মালিকদের দাবি মোতাবেক ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং তাদের টানা তিন মেয়াদ দায়িত্বে থাকার সুযোগ দিয়ে নতুন আইন করে ব্যাংকে এক ধরনের পরিবারতন্ত্র কায়েম করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও ব্যাংক মালিকরা ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট তথা এক অঙ্ক বা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনেননি।

অথচ তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার এ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের স্বার্থে সরকার একাধিকবার বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার পরও ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনা দুর্ভাগ্যজনক বলতে হবে।

আশার কথা, এবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এও উল্লেখ করেছেন, সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য অনেক সুবিধা দেয়া হয়েছে; কিন্তু সুবিধা নিয়েও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল এবং তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে না আনলে যেহেতু বিনিয়োগ বাড়বে না সেহেতু ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদের হার অবশ্যই সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।

এজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর এ হুশিয়ারি ও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার বক্তব্য যেন কথার কথা না হয়ে বাস্তবতাভিত্তিক হয় এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি বিশেষ একটি পরিস্থিতি পার করছে। আমরা উন্নয়নশীল ও ক্রমান্বয়ে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। এ অবস্থায় ব্যাংক ঋণের সুদহার যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে না হলে যে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ আসবে না, কর্মসংস্থান তৈরি হবে না, এমনকি সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা যে ব্যাংকিং খাতের, তারা এগিয়ে আসা তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারির পর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে এ ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে আসা। কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখানো। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার সংস্কারের কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর্থিক খাতের অগ্রগতির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক অবিলম্বে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×