বিনিয়োগ সম্ভাবনা

কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অফুরন্ত সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না; বিষয়টি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ছিল- বেসরকারি বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবারের বাজেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দুঃখজনক হল, প্রস্তাবিত বাজেটে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর ফলে কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা মোটেই কাম্য নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। ঘোষিত বাজেটের কারণে আগামী অর্থবছরেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, যা থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজা উচিত।

শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ঋণের জোগান বাড়ানো অপরিহার্য, তা বলাই বাহুল্য। অথচ ব্যাংকগুলোয় পর্যাপ্ত তারল্য না থাকায় বড় বড় শিল্প প্রকল্পে বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না। বস্তুত বেসরকারি বিনিয়োগে অর্থায়নের প্রধান দুটি উৎস ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে। পুঁজি স্বল্পতার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সর্বাগ্রে পুঁজির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ঋণের সুদহারও সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শিল্পের জন্য জমি প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে সরকারের পুরো প্রশাসন যন্ত্রকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

দেখা গেছে, সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে আইন-কানুন শিথিলসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে যতটা উদারতার পরিচয় দেয়, দেশীয় উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে মোটেই তা নয়। উদ্যোক্তারা নতুন কোনো শিল্প গড়তে গিয়ে পদে পদে হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হন এবং একপর্যায়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত এ অবস্থার অবসান হওয়া উচিত। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানবান্ধব দেশ গড়তে হলে কর ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা জরুরি। একইসঙ্গে এলএনজি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও জরুরি। বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে নতুন শিল্প যেমন গড়ে উঠবে না, তেমনি চলমান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রসারিত হবে না। এর ফলে কর্মসংস্থানের পথ সংকুচিত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির তাগিদ থেকে ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার ৬ শতাংশ ও সার্ভিস চার্জ নমনীয় পর্যায়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও আমাদের দেশে ঠিক তার বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।

বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটাতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে। দেশে পর্যাপ্ত বেসরকারি বিনিয়োগ না হলে অর্থবছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব নয়। কাজেই দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য দেশে মূলত আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ ব্যবসা সম্পর্কিত নীতিমালা আরও সহজ করা প্রয়োজন। উদ্যোক্তারা ইতিপূর্বে বেসরকারি খাতের বিকাশ ও শিল্পায়নের স্বার্থে প্রয়োজনে স্বল্প সুদের ‘টেকসই উন্নয়ন ফান্ড’ গঠনের পরামর্শ দিয়ে শিল্প খাতে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সেবা নিশ্চিতকরণ, কর্পোরেট ট্যাক্স হ্রাস ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন। দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনতে হলে এসব দ্রুত আমলে নেয়া উচিত।