বিদ্যুৎ বিভ্রাট: শিল্প উৎপাদনের স্বার্থে সমাধান করুন

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর সম্পাদকীয়

বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে; কিন্তু তারপরও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে শিল্প-কারখানাকে, যা খুবই দুঃখজনক। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যেমন কেমিক্যাল নষ্ট হয়ে উৎপাদনকারীর ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়, তেমনি শ্রমিকদের কাজে ব্যাঘাত ঘটে ও কাক্সিক্ষত মাত্রায় উৎপাদন করা যায় না। ফলে অনেক ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয় শিল্পোৎপাদকদের। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ার কারণে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়তে হচ্ছে না; বরং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও কেবল দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে হরহামেশা, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

জানা যায়, বিদ্যুতের উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনের অপ্রতুলতা, সরকারের অনেক আগের উদ্যোগ থাকলেও বিভিন্ন জেলায় ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশন বসানোর কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের কোথাও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। বিতরণ লাইনের সক্ষমতার অভাবে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কালবৈশাখীর মতো ঝড়েও অনেক ক্ষেত্রে এসব সঞ্চালন লাইন দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দেখা দেয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট। অথচ প্রয়োজন ছিল শিল্পোৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্প-কারখানা অঞ্চলগুলোতে হলেও শক্তিশালী বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন নিশ্চিত করা। বিতরণ কোম্পানিগুলোরও অভিযোগ, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকার পরও লাইনের সমস্যার কারণে তা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিদ্যুতের অপচয় রোধ ও শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ লাইনে মনোযোগ দেয়া দরকার।

আশার কথা, আধুনিক সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, দেশের অনেক জায়গায় আন্ডারগ্রাউন্ড বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতদিন কেবল সরকারি পর্যায়ে বিতরণ ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে বেসরকারি খাতকে বিদ্যুৎ বিতরণে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে।

বেসরকারি পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের মদুনাঘাট ও চট্টগ্রামের রাউজান থেকে মীরসরাই পর্যন্ত দুটি সঞ্চালন লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে করে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন পর্যায়ে প্রতিযোগিতা, পদ্ধতিগত ক্ষতি বা সিস্টেম লস কমিয়ে আনাসহ ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা যায়।

এছাড়া জরুরি প্রয়োজনের সময় দ্রুত সঞ্চালন লাইন তৈরি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণেও পরিবর্তন আসবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।