শিল্পে আগাম কর: বিধানটি বিনিয়োগবান্ধব নয়

  সম্পাদকীয় ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পোশাক শিল্প
পোশাক শিল্প। ছবি: সংগৃহীত

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শিল্পে আগাম করের (এটি) প্রস্তাবটি মোটেই বিনিয়োগবান্ধব নয়। বরং এটি সরকারের ব্যবসা সহজ করার নীতির পরিপন্থী। উল্লেখ্য, বাজেটে অর্থ আইনের মাধ্যমে নতুন ভ্যাট আইনের ৩১ ধারা সংশোধন করে সব ধরনের আমদানি পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে আগাম কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করযোগ্য আমদানির ওপর ৫ শতাংশ আগাম কর আদায় করতে হবে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এর ফলে শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বহুলাংশে বাড়বে।

কারণ আগে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি সংক্রান্ত কাস্টমসের একটি প্রজ্ঞাপনে দেয়া এইচএস কোডের তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় উদ্যোক্তারা ১ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ৬৫৯ ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারতেন। এর বাইরে অন্য কোনো কর দিতে হতো না।

কিন্তু এখন আমদানি পর্যায়ে সব আইটেমের ওপর আগাম কর আরোপ করায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে বিদ্যমান ১ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে বাড়তি ৫ শতাংশ ভ্যাট (আগাম কর) দিতে হবে। এর ফলে নিরুৎসাহিত হবে বিনিয়োগ। অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে রফতানি পণ্য হারাবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।

বস্তুত শিল্পে এভাবে আগাম কর নেয়া হয়রানির শামিল। সরকারের ডুয়িং বিজনেস পলিসি যেখানে সহজ হওয়া উচিত, সেখানে এ ধরনের পদক্ষেপ মোটেই কাম্য নয়। বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের স্বার্থে শিল্প খাতে নানা সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে করা হচ্ছে উল্টো। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।

শুধু শিল্পে নয়, প্রস্তাবিত বাজেটে খাদ্যদ্রব্য আমদানিতেও আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অবশ্য বলছে, আমদানির সময় পরিশোধিত আগাম কর পরবর্তী মাসের ভ্যাট রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন হল, যে কর আদায়ের পর ফেরত দেয়া হবে, সেটা আদায়ের দরকার কী? এতে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাই উদ্যোক্তাদের আগের নিয়মেই মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। আশা করি জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের আগে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হবে।

উদ্বেগের বিষয় হল, বাজেট ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম ও বেনাপোল কাস্টমস খাদ্যপণ্য ও শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি খালাসের সময় আগাম কর আদায় শুরু করেছে। এতে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। প্রশ্ন হল, নতুন বাজেট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদে আলোচনা-বিতর্ক হবে। এর আলোকে আনা হবে সংশোধনী। তারপর পাস করা হবে বাজেট।

এর আগেই আগাম কর আদায় করা হচ্ছে কেন, তা বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি দেয়া উচিত। শিল্প উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের স্বার্থে প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ শতাংশ আগাম কর পরিশোধের বিধানটি বাতিল করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×