নিরাপদ শিশুখাদ্য: ভেজাল রোধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

শিশুখাদ্য। ফাইল ছবি

সারা দেশে ভেজাল ও মানহীন পণ্য বিক্রির বিষয়টি বহুল আলোচিত। বর্তমানে অবস্থা এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির পণ্যও ভেজাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সম্প্রতি সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির গবেষণায় গরুর দুধ ও দইয়ের মধ্যে বিপজ্জনক মাত্রায় অণুজীব, কীটনাশকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে। এ অবস্থায় ভেজাল ও নিুমানের পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত না থাকলে ভেজাল ও মানহীন খাবারের প্রভাবে ভোক্তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভেজাল ও মানহীন খাবার খেয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাবার খাওয়া দরকার। কিন্তু বর্তমানে গুণগত মানসম্পন্ন খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। স্বস্তির বিষয় হল, শিশুখাদ্যে ভেজাল রোধে এবার মাঠে নামছে বিশেষ তদারকি সেল। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বিশেষ তদারকি সেল শিশুখাদ্যে ভেজাল রোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখবে।

বর্তমানে অসাধু ব্যবসায়ীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, উল্লিখিত তদারকি সেলের সক্ষমতায় কোনো রকম ত্রুটি থাকলে তাদের পক্ষে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হতে পারে। প্রাথমিকভাবে শিশুখাদ্য তৈরির সব কারখানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

কোনো পণ্য উৎপাদনের সময় গুণগত মান সঠিক থাকলেও সরবরাহের আগে তাতে ভেজাল মেশানো হয় কিনা, তাও খতিয়ে দেখা দরকার। কোনো পণ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে তাতেও পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে। তাই এসব বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রত্যন্ত এলাকার অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত ক্রেতাদের কাছে ভেজাল ও মানহীন পণ্য বিক্রি করে বেশি। পণ্যের মেয়াদ সম্পর্কে ওইসব এলাকার অনেক ক্রেতার কোনো ধারণাই থাকে না। কাজেই রাজধানীর পাশাপাশি একই সময়ে সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করা দরকার।

বর্তমানে সারা দেশে এমন অনেক পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে, যেগুলোর কোনো মেয়াদ উল্লেখ নেই। এভাবে প্রতিনিয়ত ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমানে শিশুদের মধ্যে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

এটি ভেজাল খাবারের পরিণতি কিনা, এ প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। কেবল শিশুখাদ্য নয়, সব ধরনের খাবার নিরাপদ হওয়া জরুরি। কারণ একজন মা অসুস্থ হলে শিশুর ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।