সাজানো টেন্ডার প্রক্রিয়া: জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনুন

  সম্পাদকীয় ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসি

সাজানো টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

জানা গেছে, পরিকল্পিতভাবে তিনটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্রের কাগজ উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসে পাঠানো হলেও নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এসব পণ্য কিনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের ৫১৯ উপজেলার জন্য দুটি করে মোট ১ হাজার ৩৮টি ল্যাপটপ ও ৫১৯টি প্রিন্টারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কিনছে নির্বাচন কমিশন।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালের শেষদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একটি সিন্ডিকেট একইভাবে নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ল্যাপটপ কিনতে বাধ্য করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, বছর দেড়েক আগে কেনা সেই ল্যাপটপগুলো এরই মধ্যে সঠিকভাবে কাজ করছে না।

ফলে ২০০৭-০৮ সালে কেনা ল্যাপটপ দিয়েই ভোটার হালনাগাদসহ নির্বাচনের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেল উল্লেখ করে ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার নির্দেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) বহির্ভূত। মূলত একটি অসাধুচক্র ঠিকাদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছে, যা দ্রুত রোধ করা প্রয়োজন।

চলমান টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে ‘ই-টেন্ডার’ পদ্ধতির কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হলেও এখন পর্যন্ত তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি।

দরপত্রের প্রস্তাব, মূল্যায়ন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও ই-পেমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ই-টেন্ডার পদ্ধতিতে দীর্ঘসূত্রতা হ্রাসের পাশাপাশি কাজের সঠিক মান বজায় রাখা সম্ভব হয়। অবশ্য শুধু পদ্ধতি বা প্রক্রিয়ার পরিবর্তন হলেই চলবে না, আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও লুটপাট থেকে দূরে থাকার মানসিকতা যদি নাগরিকদের মধ্যে তৈরি করা না যায়, তাহলে কোনো পদ্ধতিই সুফলদায়ক হবে না। এজন্য আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশের অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে লুটপাটের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং এটি রাষ্ট্রের মূল ভিত নড়বড়ে করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

দারিদ্র্য বিমোচন, মাথাপিছু আয় ও গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মধ্যম আয়ের (উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যেতে অগ্রগতি অর্জন) দেশে পরিণত হওয়াসহ অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন আশাপ্রদ হলেও দুর্নীতির ব্যাপ্তি সবকিছু গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে, যা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে হবে।

দেশে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের প্রসার নিয়ে গতবছর জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক কমিটি (সিইএসসিআর) উদ্বেগ প্রকাশ করে দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

ওই সময় দেশের বিশিষ্টজনরা ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দুর্নীতিবাজদের বিচার সম্পন্ন করার যে তাগিদ দিয়েছিলেন, তা সময়োপযোগী হলেও এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান শক্ত কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। নির্বাচন কমিশনে ‘টেন্ডার-দুর্নীতি’র সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি সরকার দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×