দুর্নীতি কেন বন্ধ হয় না

  রিফাত মাহদী ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি

দুর্নীতি বাংলাদেশের এক চিরচেনা সমস্যা। নিম্নবিত্তদের চেয়ে সমাজের উচ্চবর্গের লোক, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই এর সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি বেড়েছে। দুর্নীতি যেন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ভোগবাদী মানসিকতা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবই এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে সেবা, শিক্ষা ও ভূমি খাতের দুর্নীতি আমাদের আতঙ্কিত করছে। সেবা খাতগুলোর মধ্যে পাসপোর্ট বিভাগ সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত।

ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্যমতে, ৭৭ শতাংশ মানুষকে এই সেবা নিতে এসে দুর্নীতির শিকার হতে হচ্ছে। এর পরের অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির শিকার হতে হয় ৭৪.৬ শতাংশ মানুষকে।

এছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্তত ১৬টি খাতের সেবা পেতে বছরে ৮ হাজার ৮২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় বলে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকসান যেন সাধারণ ব্যাপার। কয়েক দফা ভাড়া বাড়ানোর পরও এর লোকসান পিছু ছাড়ছে না। কারণ দুর্নীতির ব্যাপকতা গ্রাস করে আছে রেলওয়েকে। রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জায়গা দখল করে আছে প্রভাবশালী মহল। রেলের তেল চুরি এখনও বন্ধ হয়নি।

আবার রেলওয়ের টিটি হতে পারলে নাকি ‘লাইফ সেটেল্ড’। কারণ অসংখ্য যাত্রী টিকিট ছাড়া যাতায়াত করে। দশদিনে একদিন টিটির হাতে ধরা পড়লে তাকে টাকা দিলেই সমস্যার সমাধান। ফলে টিটির ব্যবসা বেশ রমরমা।

দুর্নীতিগ্রস্ত আরেকটি বড় খাত স্বাস্থ্য। এখানে চাকরি পাওয়া, বদলি, পদোন্নতিসহ এগারোটি সেক্টরে দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক। অর্থের লোভে ডাক্তাররা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের নিম্নমানের ওষুধ লিখে দিচ্ছে, যা সেবন করে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে রোগীকে আবারও ডাক্তারের কাছে যেতে হচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে যেসব ওষুধ দেয়ার কথা, তা সাধারণ মানুষকে না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ তুলেছে দুদক। বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইসিইউতে লাশ আটকে রেখে বাণিজ্যের অভিযোগও আছে। রোগী মারা যাওয়ার পরও লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বেঁচে আছে বলে ওরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

কেন দুর্নীতি বন্ধ করা যাচ্ছে না? এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। আমাদের দেশে যখন যে দল ক্ষমতায় বা সরকারে থাকে, তাদের দলের নেতাকর্মীরা কিংবা দলীয় ছত্রছায়ায় অনেকেই দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যায়।

দলের ওপর থেকে দায় এড়াতে সরকারও এ ধরনের অপরাধগুলো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। আরেকটি কারণ হচ্ছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব। দুর্নীতিবাজরা প্রকৃতপক্ষে চোর। চোরকে চোর হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। আর দুর্নীতির মাত্রা বিবেচনা করে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বড় ধরনের দুর্নীতির জন্য দুর্নীতিবাজের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এমন শাস্তি প্রদান করতে হবে যাতে অন্যরা দেখে আর দুর্নীতি করার সাহস না পায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ব্যাপারে যে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই সদিচ্ছার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে। অন্যথায় বালিশ তুলতে ৭৭০ টাকা, কেটলি তুলতে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

রিফাত মাহদী : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×