প্রযুক্তির দুনিয়ায় বাণিজ্যযুদ্ধ

  মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ ২১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির দুনিয়ায় বাণিজ্যযুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে এনটিটি লিস্টে ঢুকিয়েছেন এবং কালো তালিকাভুক্ত করেছেন। ফলে এখন থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রতিষ্ঠানটির কাছে যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

গুগল ইতিমধ্যেই হুয়াওয়েকে তার প্রযুক্তির সেবা ও সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত বছর হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইভ-জি সেবার কাজে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেশটি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে হুয়াওয়ের ফাইভ-জি প্রযুক্তি ব্যবহার না করতে অনেক দেশকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও হুয়াওয়ের আগে আরেক চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডটিই’র বিরুদ্ধেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র।

বিষয়টা অনেকটা ‘ট্রান্সফরমার্স : ডার্ক অব দ্য মুন’ সিনেমার একটি দৃশ্যের মতো। জেরির টেবিলে থাকা কম্পিউটার হঠাৎ একটা রোবট পাখি হয়ে বলল, জেরি ইউ আর মাই ফেবারিট, তুই উইকি উইকিকে কী বলেছিস? যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহটাও ঠিক এরকম। তারা ভাবছে, টেলিযোগাযোগ খাতে ব্যবহৃত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহকৃত পণ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে চীনা সরকার সেদেশে গুপ্তচরবৃত্তি করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। ট্রাম্পের মতে হুয়াওয়ে খুব বিপজ্জনক। নিরাপত্তা ও সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তাদের বিপদের মাত্রা বোঝা যায়।

হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই যদিও বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় তার প্রতিষ্ঠানের কিছু আসে যায় না। তিনি বলেন, বিশ্ব হুয়াওয়ে ছাড়া চলতে পারবে না। কারণ তাদের প্রযুক্তি অন্য সবার চেয়ে উন্নত। এরই মধ্যে হুয়াওয়ে তার নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হংমেং’ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। আর চীনারা তো অনেক দিন থেকেই তাদের নিজস্ব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী জং শানের একটি বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কেবল দুর্যোগই ডেকে আনবে। এ যুদ্ধে কেউ জয়ী হবে না। এর ফলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র শুধু নয়, সারা বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঠিক তাই, ক্ষতি সবারই হবে।

আমেরিকানদের কাছে ট্রাম্পের যে প্রতিশ্রুতি- মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন, তা তিনি বাস্তবায়ন করতে চান। প্রশ্ন হল, কীভাবে? আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তিনি মেড ইন আমেরিকার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেশের সব কোম্পানিকে আমেরিকায় কারখানা স্থাপন এবং বিদেশে অবস্থিত তাদের কারখানাগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অসম্ভব। অনেকে মজা করে বলেন, এই ক্ষ্যাপাটে প্রেসিডেন্ট আমেরিকাকে গ্রেট করতে গিয়ে গভীর সমুদ্রে ডোবাবে। আর চীনের সঙ্গে তার বাধানো বাণিজ্যযুদ্ধ শীতল যুদ্ধে রূপ নিয়ে বিশ্বের মানুষকে দুইভাগে ভাগ করে ফেলবে। নিকট ভবিষ্যতে আমাদের হয়তো মেড ইন চায়না অথবা মেড ইন আমেরিকা- এর যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে।

মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ : প্রাবন্ধিক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×