সংসদে তালিকা প্রকাশ: আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়াও জরুরি

  সম্পাদকীয় ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদে দেশের ৩শ’ শীর্ষ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে তাকে এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, তালিকা প্রকাশই যথেষ্ট নয়; এ ৩শ’ শীর্ষ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ অপরাপর ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কোনোরকম শৈথিল্য প্রদর্শন কাম্য নয়।
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে দেশের ৩শ’ শীর্ষ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে তাকে এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, তালিকা প্রকাশই যথেষ্ট নয়; এ ৩শ’ শীর্ষ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ অপরাপর ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কোনোরকম শৈথিল্য প্রদর্শন কাম্য নয়।

ইতিপূর্বে অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপি হওয়াকে ‘অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এক্ষেত্রে তিনি মালয়েশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, মালয়েশিয়ায় যেসব ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, তাদের নামের তালিকা সরকারিভাবে তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয় এবং কেউ দেশত্যাগ করতে চাইলে তাকে আটক করা হয়। প্রয়োজনে আইন সংস্কার করে আমাদের এখানেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। সময়োপযোগী ও যথার্থ এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রী কোনো ছাড় দেবেন না বলেই আমাদের বিশ্বাস।

উদ্বেগের বিষয় হল, খেলাপি ঋণের বৃত্ত থেকে কোনোভাবেই বের হতে পারছে না দেশের ব্যাংক খাত। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বর্তমানে ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। মূলত ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসনের অভাব এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা শিথিল হওয়ার কারণেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে ঋণ ভাগাভাগি করার কারণে সেখানেও খেলাপির সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বস্তুত খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়া।

খেলাপি ঋণ কমাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা প্রয়োজনে ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ঋণখেলাপিরা ব্যাংকের দায় পরিশোধ করবেন না; অথচ বিলাসী জীবনযাপন করবেন, তা যেন না হয়। পরামর্শ সভায় ঋণখেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করার পাশাপাশি তাদের সন্তানদের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আটকে দেয়াসহ তারা যাতে গাড়ি ও বাড়ি কিনতে না পারেন, তা কার্যকর করার উপায় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

দুশ্চিন্তার বিষয় হল, মোট খেলাপি ঋণের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশই মন্দমানের। খেলাপি ঋণ না কমে বরং দিন দিন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়া। এছাড়া যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রদেয় নতুন ঋণও খেলাপির পাল্লা ভারি করছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঋণ যাতে কুঋণে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোর সতর্ক থাকা জরুরি। মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেয়ার পর তা খেলাপিতে পরিণত করার প্রবণতা শুরুতেই রোধ করা গেলে ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে।

দুঃখজনক হল, ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি, যার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকসহ আরও কিছু ব্যাংকের ঋণ কেলেংকারির ঘটনা। বস্তুত ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার প্রবণতা এক ধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে আমাদের সমাজে। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় জবাবদিহিতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পাশপাশি খেলাপি ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×