কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন
jugantor
কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন

  সম্পাদকীয়  

২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা
কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা। ছবি: যুগান্তর

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় রোববার রাতে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় অনেকে হতাহত হয়েছেন।

সোমবার দুপুরে এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত ৭ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। এ ধরনের ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এবারও যথারীতি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এর প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া যাবে, এটাই কাম্য।

দুর্ঘটনায় আহতরা যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, লাইনের ত্রুটির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। লাইনের ত্রুটির বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিরা অনেক আগেই স্টেশনে কর্তব্যরত ব্যক্তিদের জানিয়েছিলেন। লাইনের ত্রুটির কারণে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ব্রিজ ভেঙে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে গুরুত্ব দেয়া হলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। লাইনের কোথাও কোনোরকম ত্রুটি আছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন সময় লক্ষ করেছি, স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সারা দেশের রেললাইনগুলো অনেক দিনের পুরনো। কাজেই এসব লাইনের কোথাও ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত মেরামতের পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্রিজগুলোরও সংস্কার করা জরুরি। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য অনেকে ট্রেনকেই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখেন। জানা গেছে, সড়কপথে সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর সেতু ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ রুটে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

তাই এসব রুটের বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াতের জন্য ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই ট্রেনের ওপর চাপ বেড়েছে। রেলওয়ের স্থানীয় কোনো কোনো কর্মী মনে করেন, অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে রোববার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

ট্রেন দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সময় রেলের জনবল সংকটের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কাজেই ট্রেন লাইনের কোথাও কোনো সমস্যার কথা স্থানীয় জনসাধারণ রেলওয়ের নিকটস্থ কর্মীদের জানালে দ্রুত তা আমলে নিয়ে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্থলপথে সিলেট-ঢাকা রুটে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। কেবল এ রুটেই নয়, সিলেট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ বাড়বে। কাজেই রেল ও সড়কপথের ব্রিজগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে সাধারণ যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কারণ আকাশপথে চলাচলের সামর্থ্য রয়েছে কম মানুষেরই।

 

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিন

 সম্পাদকীয় 
২৫ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা
কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা। ছবি: যুগান্তর

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল এলাকায় রোববার রাতে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় অনেকে হতাহত হয়েছেন।

সোমবার দুপুরে এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত ৭ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। এ ধরনের ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। এবারও যথারীতি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এর প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া যাবে, এটাই কাম্য।

দুর্ঘটনায় আহতরা যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, লাইনের ত্রুটির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। লাইনের ত্রুটির বিষয়টি স্থানীয় ব্যক্তিরা অনেক আগেই স্টেশনে কর্তব্যরত ব্যক্তিদের জানিয়েছিলেন। লাইনের ত্রুটির কারণে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ব্রিজ ভেঙে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে গুরুত্ব দেয়া হলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। লাইনের কোথাও কোনোরকম ত্রুটি আছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও আমরা বিভিন্ন সময় লক্ষ করেছি, স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সারা দেশের রেললাইনগুলো অনেক দিনের পুরনো। কাজেই এসব লাইনের কোথাও ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত মেরামতের পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্রিজগুলোরও সংস্কার করা জরুরি। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য অনেকে ট্রেনকেই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখেন। জানা গেছে, সড়কপথে সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর সেতু ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ রুটে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নঘটছে।

তাই এসব রুটের বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াতের জন্য ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই ট্রেনের ওপর চাপ বেড়েছে। রেলওয়ের স্থানীয় কোনো কোনো কর্মী মনে করেন, অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে রোববার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

ট্রেন দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সময় রেলের জনবল সংকটের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কাজেই ট্রেন লাইনের কোথাও কোনো সমস্যার কথা স্থানীয় জনসাধারণ রেলওয়ের নিকটস্থ কর্মীদের জানালে দ্রুত তা আমলে নিয়ে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর স্থলপথে সিলেট-ঢাকা রুটে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। কেবল এ রুটেই নয়, সিলেট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ বাড়বে। কাজেই রেল ও সড়কপথের ব্রিজগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে সাধারণ যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কারণ আকাশপথে চলাচলের সামর্থ্য রয়েছে কম মানুষেরই।