জনপ্রশাসনে দুর্নীতি: টিআইবির সুপারিশগুলো আমলে নিতে হবে

  সম্পাদকীয় ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ছবি: যুগান্তর

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার : নীতি ও চর্চা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেলেও দুর্নীতি কমছে না।

কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি সুবিধা বাড়ানো হলেও তারা নিজেদের গাড়ি ব্যবহার না করে পরিবহন পুলের গাড়ি ব্যবহার করছে। বস্তুত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পরও যে দুর্নীতি কমেনি, ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যেও তা ফুটে উঠেছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখেছেন, তিনি প্রশাসনে এত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরও কেন দুর্নীতি হবে? প্রকৃতপক্ষে এ প্রশ্ন শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, সবার।

জনপ্রশাসনে দুর্নীতি হচ্ছে নানাভাবেই। দেশে দুর্নীতির একটি বড় উপলক্ষ হল সরকারি চাকরিতে নিয়োগ। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৮) সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থায় নিয়োগে দুর্নীতি-অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বলা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সূত্রপাত ঘটে শুরু থেকেই। অর্থাৎ যারা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পায়, পরবর্তী সময়ে তারা আরও বেশি দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে। একপর্যায়ে তারা ঘুষ-দুর্র্নীতির মাধ্যমে অন্যদের নিয়োগ দেয়। আর এভাবেই চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে দুর্নীতি। প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির এই দুষ্টচক্রের কারণেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি রোধ করা যাচ্ছে না।

দুর্নীতি দমন করতে চাইলে ভেঙে ফেলতে হবে এ দুষ্টচক্র। টিআইবির মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার চর্চা সঠিকভাবে হচ্ছে না। এটিও দুর্নীতির একটি কারণ বটে। দুর্নীতির অপর একটি কারণ মানুষের মন-মানসিকতা।

বলা হয়ে থাকে, মানুষের চাওয়ার কোনো শেষ নেই, সে যত পায় তত চায়। মানুষের এই লোভী মনোবৃত্তির পরিবর্তন জরুরি। বস্তুত সমাজে নৈতিকতা হ্রাস পাওয়ার কারণেই মানুষের মধ্যে লোভ-লালসা বাড়ছে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণ কীভাবে সম্ভব তা সমাজবিজ্ঞানীদের ভেবে দেখতে হবে। আপাতত সরকারের কঠোর অবস্থান এবং আইন ও বিধানের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূলের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

টিআইবির গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার নীতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি বছর সম্পদের হিসাব দেয়ার কথা থাকলেও তারা তা দিচ্ছেন না। এ বিধানটি নিয়মিত প্রতিপালিত হলে তা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

টিআইবির এ সংক্রান্ত সুপারিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সরকারি কর্মচারী আইন-১৯৭৯ শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে হালনাগাদকরণ, আয়কর প্রদানের বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রদানে সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল কাঠামো তৈরি করে সে অনুযায়ী বার্ষিক সম্পদের হিসাব নিশ্চিতকরণ, জনপ্রশাসনের উচ্চপদগুলোয় শূন্যপদের বিপরীতে অতিরিক্ত নিয়োগ না দিয়ে নিচের পদগুলো পূরণ, পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করে সব ক্যাডারকে সমান সুযোগ দেয়া ইত্যাদি।

টিআইবির এসব সুপারিশ আমলযোগ্য। আমরা মনে করি, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা হ্রাস বা বৃদ্ধি পাওয়া।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×