ওটিতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের এ হাল কেন?

  সম্পাদকীয় ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওটিতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সর্বদা জীবাণুমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ওটি জীবাণুমুক্ত না থাকলে রোগীর দেহে তা সংক্রমিত হতে পারে, এমনকি এর ফলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

এমনই এক সংকটে পড়ে অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে।

জানা যায়, এ হাসপাতালের ওটিতে মারাত্মক ‘সিউডোমোনাস এরোজিনাস’ ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটেছে। অপারেশন থিয়েটারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ছাড়াও একাধিক রোগীর শরীরে এর সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। উল্লেখ্য, প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী এ ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে যে কোনো মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

হাসপাতালটির একজন চিকিৎসক বলেছেন, ‘ওপেন হার্ট সার্জারির রোগীরা এ ব্যাক্টেরিয়ায় আক্রান্ত হলে তাদের ভাল্ব কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, এমনকি রোগীর সেলাই পর্যন্ত কেটে যেতে দেখা যায়। এসব কারণে হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি অলিখিতভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী সন্দেহ নেই। তবে বলাবাহুল্য, অপারেশন বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ওটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাসপাতালে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যায়।

জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট হার্টের চিকিৎসার জন্য দেশের সাধারণ মানুষের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অগণিত হার্টের রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।

তাছাড়া অন্যান্য রোগের তুলনায় হৃদরোগের চিকিৎসা জরুরি ভিত্তিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেক্ষেত্রে অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত থাকাটা উদ্বেগের বিষয়ই বটে। তবে এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়াটাও অনাকাক্সিক্ষত। হাসপাতালের পরিবেশ আতঙ্কমুক্ত করতে হবে দ্রুত।

হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে মারাত্মক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি। জানা যায়, এর আগে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত একই কারণে বন্ধ ছিল এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার। সে সময় ওটি জীবাণুমুক্ত করা হলেও আবার তাতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটেছে।

কাজেই সমস্যাটির কারণ দ্রুত চিহ্নিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। বস্তুত জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের দিকে তাকালে মনে হয় চিকিৎসা কেন্দ্রটি নিজেই নানাবিধ রোগে আক্রান্ত। এর কর্মক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় কখনও কখনও, অথচ রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আর এই অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

একবার হাসপাতালটির পাঁচটি ক্যাথল্যাবের সবক’টিই একসঙ্গে বিকল হয়ে পড়ায় এক সপ্তাহ রোগীদের এনজিওগ্রাম ও হার্টে রিং লাগানো বন্ধ ছিল। ক্যাথল্যাবের পাশাপাশি টিএমএলআর মেশিন, স্টেম সেল, রেনাল কার্ড, ইসিপি থেরাপি মেশিনও প্রায়ই নষ্ট থাকে বলে অভিযোগ আছে।

সাধারণ রোগীরা সচরাচর বেসরকারি হাসপাতালে যান না এ কারণে যে, সেখানে চিকিৎসা ব্যয় বেশি। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমরা আশা করব, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের যাবতীয় সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই অতিরিক্ত চাপ মোকাবেলার জন্য অবকাঠামোগত বিস্তৃতিসহ রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×