বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

নিয়ম অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

  সম্পাদকীয় ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন তারা উন্নত নীতি-নৈতিকতার পরিচয় দেবেন, এটি প্রত্যাশিত হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা লক্ষ করা যায় না।

শুধু তা-ই নয়, কোনো কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বারবার অমান্য করে চলেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রায় এক দশক আগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু এই দীর্ঘ সময় পরও যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান আগামীতে স্বল্প সময়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে, তেমনটি মনে হয় না।

কাজেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এসব প্রতিষ্ঠানের আচরণ পর্যবেক্ষণে তাদের বাণিজ্যিক মানসিকতাই স্পষ্ট।

সেবার নাম করে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে মানের প্রশ্নে কোনোরকম ছাড় দেয়া অনুচিত। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানতে অক্ষম বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন।

বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আচরণ দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জানিয়েছে, কেউ অনুমোদনবিহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাসে বা অননুমোদিত কোনো প্রোগ্রাম বা কোর্সে ভর্তি হলে এর দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নেবে না।

গণমাধ্যমে প্রচারিত এ বিজ্ঞাপন থেকেই স্পষ্ট, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কতটা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এত ব্যর্থতার পর কোনো কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নৈতিক অধিকার থাকে কি? যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করতেও দ্বিধা করে না, তাদের বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

কারণ যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ঠিকমতো মানে না, তাদের ফাঁদে পা দিয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

উল্লিখিত বিজ্ঞাপন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি।

যেসব শিক্ষার্থী শেষ সম্বল ভিটা-বাড়ি বিক্রি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের কী হবে? নিয়ম অমান্যকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×