স্মরণ

সব মুক্তিযোদ্ধার মা

  ইসমাইল মাহমুদ ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সব মুক্তিযোদ্ধার মা
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

আজ ২৬ জুন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা যোদ্ধা শহীদ শাফী ইমাম রুমি বীরবিক্রমের (মরণোত্তর) মা লেখক ও শিক্ষাবিদ জাহানারা ইমাম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমির সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়া, অস্ত্র আনা-নেয়া, যুদ্ধক্ষেত্রে তা পৌঁছে দেয়া ইত্যাদি ভূমিকা পালন করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। যুদ্ধ যখন প্রায় শেষের দিকে, নিশ্চিত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে প্রিয় মাতৃভূমি, এ সময়ে পাক হায়েনাদের হাতে ধরা পড়েন রুমি।

তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে বর্বর পাক হায়েনারা। নির্যাতনে রুমি অকালে শাহাদাৎবরণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে মুক্তিযোদ্ধাদের মা হিসেবে বরণ করে নেন রুমির বন্ধু ও সহযোদ্ধারা। তাকে দেয়া হয় ‘শহীদ জননী’র মর্যাদা।

১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে দলের আমীর ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। এ ঘোষণার পর সারা দেশে জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয়।

কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে আহ্বায়ক মনোনীত করেন। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠিত হয়।

সর্বসম্মতিক্রমে ওই কমিটির আহ্বায়কও নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম। এই জাতীয় কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ’গণআদালতের’ মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে।

জাহানারা ইমাম একজন সুলেখক। বিভিন্ন সময়ে তার বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের ওপর স্মৃতিচারণমূলক তার অমর গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

১৯৮৮ সালে ‘একাত্তরের দিনগুলি’র কিশোর সংস্করণ ‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ক্যান্সারের সাথে বসবাস’ এবং ১৯৯২ সালে ডায়েরি আকারে লেখা স্মৃতিকথা ‘প্রবাসের দিনলিপি’। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম নিজ কর্মগুণে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

তিনি ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার ও কমর মুশতরী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা ১৪০১ সালের ১ বৈশাখ দৈনিক আজকের কাগজ কর্তৃক শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা পুরস্কার, ১৯৯৪ সালের মার্চ মাসে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৯৮ সালে রোকেয়া পদক, ২০০১ সালে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, ইউনিভার্সাল শিল্পীগোষ্ঠী পুরস্কার, শাপলা ইয়ুথ ফোর্স পদক, কারমাইকেল কলেজ গুণীজন সম্মাননা, মাস্টারদা সূর্যসেন পদক, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব-ত্রিপুরা সাংগঠনিক কমিটি পুরস্কার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পদক, রোটারেক্ট ক্লাব অব স্যার সলিমুলল্লাহ মেডিকেল কলেজ পুরস্কার, বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পীগোষ্ঠী পুরস্কার, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংঘ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পদক ইত্যাদি লাভ করেন।

এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

ইসমাইল মাহমুদ : গণমাধ্যমকর্মী

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×