দুধে অ্যান্টিবায়োটিক-ডিটারজেন্ট: এই জঘন্য অপরাধের বিহিত হওয়া চাই

  সম্পাদকীয় ২৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুধে অ্যান্টিবায়োটিক-ডিটারজেন্ট

নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোর পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধসহ নানা পণ্য মানুষ বাড়তি দাম দিয়ে কিনে থাকে কেবল খাঁটি পণ্য পাওয়া যাবে এ আস্থায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোতেও আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না।

খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে শিশুখাদ্য, ফলমূল কিছুই নিরাপদ নয়। সম্প্রতি নানা অনুসন্ধানে বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের পণ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর জনগণের মধ্যকার উদ্বেগ আমলে নিয়ে পরিস্থিতি কেমন তা খুঁজে বের করতে একটি অনুসন্ধান চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টার।

উদ্বেগের বিষয়, ওই পরীক্ষায় প্রাণসহ সাতটি কোম্পানির পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া উভয় ধরনের ১০ প্রকারের দুধের নমুনায় ফরমালিনের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

শুধু দুধে নয়, প্রাণসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, গুঁড়ো মরিচ, হলুদ, মসলা, সয়াবিন ও সরিষার তেল, ফ্রুট ড্রিংকস ও পামওয়েলও বিএসটিআইয়ের মানোত্তীর্ণ হতে পারেনি।

যেসব কোম্পানির দুধে ডিটারজেন্ট ও অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে সেগুলো হল প্রাণ, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, ইগলু, ইগলু চকলেট ও ইগলু ম্যাংগো। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এ পণ্যগুলো সবার কাছে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি এগুলো লোভনীয় শিশুখাদ্য হিসেবেও খুবই প্রচলিত।

এর মাধ্যমে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট ও ফরমালিন খেয়ে শিশুদের শরীর খারাপ হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত হুমকি তৈরি হচ্ছে। আমরা মনে করি, খাদ্যে ভেজাল দেয়া কোম্পানিগুলো যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই।

এটি কেবল মুনাফার বিষয় নয়, সুস্থ-সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার মতো মৌলিক বিষয় এতে জড়িত। ফলে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের উপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেয়ার উপায় নেই।

এটি সত্য, কেবল পরীক্ষিত নমুনায় ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক-ডিটারজেন্ট-ফরমালিনের উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সব ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে না; কিন্তু এতে করে ওইসব কোম্পানির ওপর আস্থাও রাখা যায় না।

উল্লেখ্য, দুধের পাশাপাশি রূপচাঁদা, রাঁধুনী, তীর, এসিআই, পুষ্টি ও মুসকানসহ বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের সয়াবিন, সরিষার তেল, লবণ, গুঁড়ো মসলা ও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য মূলত ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টার পরীক্ষা করে দেখেছে আদালতের একটি রিপোর্টের পর স্বেচ্ছায়।

রমজানে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ও বাজার থেকে ওইসব পণ্য সরিয়ে নেয়ার রুল জারি করেন আদালত। বস্তুত, বর্তমানে আমাদের দেশে ক্যান্সার, ব্রঙ্কাইটিস, হার্টঅ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল-কঠিন রোগের প্রাদুর্ভাবের পেছনে খাদ্যে ভেজাল যে বিশেষভাবে দায়ী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে খাদ্যদ্রব্যে ভেজালকারী হিসেবে চিহ্নিত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ও বায়োমেডিকেল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক অ্যান্টিবায়োটিক রোধে যে দুটি পরামর্শ দিয়েছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক নম্বর হল অবিলম্বে দুধ দেয়া গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো বন্ধ করা, কারণ দুধের মাধ্যমে সেই অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

দ্বিতীয় হল, সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো যেন সঠিক ও নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করে। জনস্বার্থে ক্ষতিকর দুধসহ সব ভেজাল পণ্য ও এর উৎপাদকদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী।

ঘটনাপ্রবাহ : পণ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×