নৃশংস হত্যাকাণ্ড

অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। কুপিয়ে, পুড়িয়ে, গলা কেটে হত্যার ধুম লেগেছে যেন।

স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

ওদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিউটি আক্তার নামে এক মধ্যবয়সী ইউপি সদস্যকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ফেনীর নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার পর বেশ কয়েকজনকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে নরসিংদীর কলেজছাত্রী ফুলন বর্মণ ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বুধবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এই সম্পাদকীয় যখন লেখা হচ্ছে তখন খবর পাওয়া গেছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্য ও তার ৯৫ বছর বয়সী মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

আমরা লক্ষ করছি, বর্তমানে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে, সেগুলো আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে না। দুর্বৃত্তরা হয় পুড়িয়ে, না হয় কুপিয়ে কিংবা গলা কেটে হত্যা করছে। হত্যার এ এক নতুন নিয়ম চালু হয়েছে যেন! কেন এই উন্মত্ততা? হত্যাকারীরা কোনোকিছুই পরোয়া করছে না। রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর দেশময় এ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে, মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। অথচ এসব প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে থোড়াই পাত্তা দিচ্ছে অপরাধীরা। মানুষ কেন এত বেপরোয়া হয়ে উঠল, কেন সামান্যতেই তাদের মধ্যে জেগে উঠছে জিঘাংসা- এটা এক বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে প্রতিকারের ব্যবস্থা না নিলে মানুষের এ নৃশংসতা রোধ করা যাবে না।

বাংলাদেশ ছোট্ট আয়তনের একটি দেশ এবং এখানে বাস করছে ১৭ কোটি লোক। মানুষের মধ্যে যদি শুভবুদ্ধি কাজ না করে, তাহলে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘটা অপরাধ দমন করা একা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হওয়ার কথা নয়। সংবাদপত্রের পাতা খুললেই শুধু হত্যা আর হত্যা। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে শুভবুদ্ধি জাগ্রত করার পরিকল্পনা নিয়েও এগোতে হবে। অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলা হয়ে থাকে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যে একেবারেই হচ্ছে না, তা নয়। পুরান ঢাকার বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার হয়েছে, অথচ কুপিয়ে হত্যা বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে। সুতরাং শুধু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরাধ দমনে পুরোপুরি কার্যকর নয় বলেই প্রতীয়মান হয়। আসলে প্রয়োজন পড়েছে সমাজের চতুর্দিকব্যাপী এক বড় সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যে আন্দোলন মানুষকে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন করে গড়ে তুলবে।

তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও যে হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, সে কথা অস্বীকার করা যাবে না। এ সম্পাদকীয়তে সাম্প্রতিক যেসব হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রতিটিরই বিচার হওয়া চাই। বস্তুত অপরাধের বিচার ও একইসঙ্গে মানুষের মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার আন্দোলন- এ দু’য়ের যথাযথ বাস্তবায়ন হলেই হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের অপরাধ দমন

সম্ভব হবে।