মানুষরূপী পশুর হিংস্রতা!

  মীর আব্দুল আলীম ২৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

সকালে ঘুম থেকে উঠে যুবকের রক্তাক্ত বীভৎস লাশ কে দেখতে চায়? খুনিরা কি ভয়ংকর! পৃথিবীতে আর কোনো প্রাণী এমন আছে কি? কী দেখলাম বরগুনায়!

মানুষরূপী ক’টা পশু তাদের পশুত্ব প্রকাশ করছে। প্রকাশ্যে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে হত্যা করছে কয়েকজন যুবক। শত শত মানুষের সামনে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে।

আর সবাই চেয়ে চেয়ে শুধু তামাশা দেখছে। এ ঘটনায় আক্রান্ত যুবক পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত যুবকের নাম রিফাত শরীফ। স্ত্রী মুন্নির সে কি আকুতি!

তিনি স্বামী রিফাতের ওপর হামলাকারীদের নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। স্বামীকে বাঁচাতে হামলাকারীদের হাতে-পায়ে ধরেও শেষ রক্ষা হয়নি।

তারা রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে গেল। এসব দেখছি ভিডিওতে আমরা। এমন দৃশ্য দেখে সুস্থ থাকা যায়? প্রতিনিয়তই এমন হচ্ছে। ওসব দেখতে দেখতে আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

সমাজে যেসব অপরাধ হচ্ছে তা খুবই মর্মান্তিক, নারকীয় ও ভয়ংকর। এমন অপরাধ সভ্যসমাজের মানুষের কাছে কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এসব বর্বরোচিত ঘটনার আসামিরা আইনত কোনো প্রকার অনুকম্পা বা দয়া পেতে পারে না। তবুও আইনের নানা ফাঁকফোকর দিয়ে আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

বলতেই হয়, বিশ্বজিতের রক্তের দাম দিতে হয়েছে রিফাতের প্রাণের বিনিময়ে! বিচারহীনতার সংস্কৃতির এই দেশে এভাবেই রিফাতদের চলে যেতে হয় অকালে অতৃপ্তি নিয়ে। আর আমাদের বেঁচে থাকতে হয় তাদের অভিশাপের বোঝা নিয়ে।

বরগুনায় ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না আমরা। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

রাজধানী ঢাকায় নিহত দর্জি দোকানের কর্মী বিশ্বজিৎ দাস হত্যার চেয়েও বরগুনার ঘটনাটি বেশি বর্বরোচিত বলে আখ্যা দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

শত শত মানুষের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে শুধু স্ত্রী মিন্নিই দুই হামলাকারীকে বারবার প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছেন।

বাকিরা ছিল নীরব দর্শক। তারা পাশে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং এ নিষ্ঠুর ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণে মগ্ন ছিল অনেকে।

চোখের সামনে ঘটছে এমন একটি ঘটনা; কিন্তু একজন মানুষকেও পাওয়া যায়নি যিনি ঘটনার প্রতিবাদ বা প্রতিরোধে এগিয়ে গেছেন।

চোখের সামনে অন্যায় দেখেও নীরব থাকার এমন প্রবণতা একটা জাতি ধ্বংস হওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাদের বিবেক বলে কি কিছুই নেই?

বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের নীরব দর্শক হয়ে ওঠারও একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। এর দায় কিন্তু আপনি-আমি এড়াতে পারি না।

আমরা মনে করি, বর্বতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। যখনই আইনের শাসন একটু ঢিলেঢালা হবে তখনই সমাজে বর্বরতা বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কারণেও বর্বরতা বাড়ছে। এ জন্য সামাজিকভাবে পরিবারকে ছোট থেকেই শিশুদের নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। যারা অপরাধী তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে অপরাধীরা বেপরোয়া ও ভয়ংকর হয়ে উঠবে, ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের ভয়াবহতা বাড়বে। দেশের যে কোনো হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে সরকারকে।

মীর আব্দুল আলীম: সাংবাদিক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×