সুইস ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধি: অর্থ পাচার রোধ করুন

  সম্পাদকীয় ২৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টাকা পাচার

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) বাংলাদেশিদের সঞ্চয় বেড়েছে। ২০১৭ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

২০১৮ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশিদের মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৭৩ কোটি। এ হিসাবে আলোচ্য বছরে সঞ্চয় বেড়েছে ১ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ২৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিনিয়োগ না হওয়ায় দেশ থেকে পুঁজি পাচারই এর কারণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনে অনুযায়ী, মূলত চারটি প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে।

যেমন- বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিমূল্য বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), রফতানিতে মূল্য কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং), হুন্ডি ও অন্য মাধ্যমে বিদেশে লেনদেন এবং ভিওআইপি ব্যবসা। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে পাচার হচ্ছে।

উল্লেখ্য, টাকা পাচারে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

উৎকণ্ঠার বিষয় হল, প্রতি বছর দেশ থেকে টাকা পাচারের হার বাড়ছে। আইনগতভাবে দেশের বাইরে টাকা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও বিগত দেড় দশকে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ গড়ে তুলেছেন এবং এর মাধ্যমে তারা দেশ থেকে পাচার করেছেন প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, আরও অন্তত পাঁচ হাজার বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ প্রকল্পে আবেদন করেছেন। তবে শুধু মালয়েশিয়া নয়- লন্ডন, সিঙ্গাপুর, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই প্রভৃতি দেশেও কয়েক হাজার বাংলাদেশি বাড়ি-ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

পুঁজি পাচারের ঘটনা ঘটে মূলত সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে। দেশে সঞ্চয় বাড়লেও বিনিয়োগ বাড়ছে না। টাকা পাচারের আরেকটি বড় কারণ দুর্নীতি। দুর্নীতি বেড়েছে বলেই অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ৫ (১) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কেউ দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠাতে পারেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে বিদেশে টাকা জমা রাখার অনুমোদন দেয়া হয়নি।

যেহেতু বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা নিয়ে বিনিয়োগ করার আইনগত বৈধতা নেই, কাজেই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোয় গচ্ছিত অর্থসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগকৃত সব টাকাই দেশ থেকে পাচার হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিদেশে অর্থ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এজন্য শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তারপরও টাকা পাচারের ঘটনা কেন বন্ধ হচ্ছে না, এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

অভিযোগ রয়েছে, টাকা পাচারের বিষয়টি সরকার অবহিত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না; কারণ প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকেই অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

অর্থ পাচার প্রক্রিয়ায় কেবল রাজনীতিক নন; বরং দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি ছাড়াও সরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীও জড়িত। নীতি-নৈতিকতা ও দেশপ্রেম ভুলে তারা বিদেশে অর্থ পাচার করছেন, যার প্রায় সবটাই অসৎ উপায়ে অর্জিত।

এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় খোঁজা জরুরি। কোনো শর্ত বা অনুকম্পার অজুহাতে অর্থ পাচারকারীরা যাতে পার না পায়, সরকারের উচিত তা নিশ্চিত করা। তা না হলে দেশ থেকে অর্থ পাচারের ঘটনা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে, যা মোটেই কাম্য নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×