বেবিচকে দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধের বিচার হতে হবে

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এক নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ দুর্নীতির অভিযোগে শাহজালাল, শাহ আমানত, সিলেট ওসমানী ও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৫ প্রকল্পের ফাইল তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

একইসঙ্গে এসব প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানসহ ৯ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও তলব করা হয়েছে।

দুদক কর্তৃক প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোয় কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়েছে কিনা এবং এর সঙ্গে বেবিচকের কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রাডার মেরামত, কেলিব্রেশন, এক্সপ্লোসিভ ডিটেনশন স্থাপন, শাহজালাল বিমানবন্দর টার্মিনালে বিনা টেন্ডারে ১৬ কোটি টাকার কাজ, বোর্ডিং ব্রিজের স্পেয়ার পার্টস ক্রয় এবং উন্নয়নসংক্রান্ত মেগা প্রকল্প।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়েছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান হলেন নাটের গুরু। ফাইল আটকে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। ঘুষ না দিলে কোনো কাজই করেন না তিনি, এক মাসের কাজ এক বছর আটকে রেখেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট এক কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুর রহমানকে ২ শতাংশ কমিশন না দিলে তিনি কোনো ফাইল পাঠান না, উল্টো সেগুলো বেবিচকে ফেরত পাঠিয়ে দেন।

বেবিচকের পাঁচ প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে গুরুতর। এমনিতেই বিমান ও বেবিচকের দুর্নীতি এক সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নতুন অভিযোগ এ দুটি সংস্থাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, সন্দেহ নেই।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার এই অস্বীকারের মধ্য দিয়ে আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় না।

আমাদের কথা হল, দুদক উল্লেখিত পাঁচ প্রকল্পের দুর্নীতি উদঘাটনে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, তদন্ত সাপেক্ষে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনগত ব্যবস্থা।

বিমান ও বেবিচকের ভাবমূর্তি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুটি সংস্থার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে হলে সংস্থা দুটির অভ্যন্তরে সংঘটিত সব ধরনের দুর্নীতির বিহিত হওয়া দরকার।