মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিন

  আর কে চৌধুরী ৩০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুক্তিযোদ্ধা

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পর বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে।

২৫ মার্চ রাতে শুরু হয় পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিষ্ঠুর গণহত্যা। ২৬ মার্চের সূচনালগ্নে পাকবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

শুরু হয় অবরুদ্ধ দেশ থেকে দখলদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার মরণপণ লড়াই- মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশ স্বাধীন না করলে আজ আমরা কোনোভাবেই নিজেদের স্বাধীন জাতি ভাবতে পারতাম না, পরাধীনতার শিকল হয়তো আমাদের আজও তাড়া করে বেড়াত।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীকে বিতাড়িত করার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিনিয়ে এনেছে। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা কখনও তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেননি।

মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের অহংকার। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনমান উন্নয়নে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাদের জন্য বাসস্থান, চিকিৎসাসেবা, কোটাভিত্তিক সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি পর্যায়ক্রমে সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মাসিক সম্মানী ভাতা ২০০০ টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধারা বর্তমানে দুই ঈদে সমপরিমাণ দুটি উৎসব ভাতা, বিজয় দিবস ভাতা এবং নববর্ষ ভাতা ভোগ করছেন। এসব সুবিধা আগের মতোই অব্যাহত থাকছে। মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি বছর বিজয় দিবস ভাতা বাবদ এককালীন ৫০০০ টাকা পাচ্ছেন।

এজন্য সরকারের বরাদ্দ রয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। আর নববর্ষ ভাতা পাচ্ছেন ২০০০ টাকা করে। এজন্য সরকারের বরাদ্দ রয়েছে ৪০ কোটি টাকা। আর দুই ঈদে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দুটি উৎসব ভাতা বাবদ সরকারের বরাদ্দ আছে ৪০০ কোটি টাকা। এসব সুবিধাসহ ২০০০ টাকা ভাতা বাড়ানোর ফলে আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৪৮০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সে হিসাবে বরাদ্দের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করছেন। আমি একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বাড়িয়ে একটি সম্মানজনক জায়গায় নেয়ার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে এ দেশের স্বাধীনতা এনেছেন, পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছেন। খুব স্বাভাবিক কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সুন্দর অর্থনৈতিক জীবন নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। অনেক মুক্তিযোদ্ধাই আছেন বা ছিলেন, যারা রাষ্ট্রের আনুকূল্য নেয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি।

সে কথা ভিন্ন, তবে যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধা প্রয়োজন মনে করেন, তবে তার সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

পরিশেষে বলছি, আমরা একটি বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আমরা সর্বদা মাথা উঁচু রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাব, কারও কাছে মাথানত করে নয়।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৮৮ ৩৩
বিশ্ব ১২,২৪,৮৯৪২,৫৩,৮২১৬৬,৪৯৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×