বন্ড অনিয়ম রোধের উদ্যোগ: দেশীয় বস্ত্র শিল্প রক্ষার বিকল্প নেই

  সম্পাদকীয় ০৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশীয় বস্ত্র শিল্প রক্ষার বিকল্প নেই

বন্ড লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। জানা গেছে, এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় ২৩২ প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ১৩২টিই অস্তিত্ববিহীন, অর্থাৎ কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে কারখানা নেই। অনিয়মকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ড সুবিধার আওতায় বিনা শুল্কে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করে আসছে।

এসব কাঁচামালে মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সুতা, কাপড়, কাগজ, এক্সেসরিজ, পিপি দানা ইত্যাদি, যা রাজধানীর নির্ধারিত বিভিন্ন স্পটে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়। এর ফলে একদিকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময় বস্ত্র খাত, অন্যদিকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বস্তুত শতভাগ রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে তাকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বলে। কাজেই শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাপড় কেবল শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পে ব্যবহার হওয়ার কথা। খোলাবাজারে বিক্রি হওয়ার কথা নয়। তাহলে কিভাবে এমনটি ঘটছে? বোঝাই যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে একটি চোরাই কারবার চলছে।

জানা যায়, একশ্রেণীর অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তার সহায়তায় দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র বন্ড সুবিধায় কাপড় এনে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। রাতারাতি ধনী হওয়ার আশায় অনেকেই এ অবৈধ পথ অনুসরণ করে থাকে। দেশীয় শিল্প রক্ষার স্বার্থে এ অবৈধ কারবার বন্ধ করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেই শুধু নয়, যারা তাদের সহায়তা করছে তাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ চক্রের সঙ্গে কাস্টমসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকায় কালোবাজারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। আমরা মনে করি, দেশীয় বস্ত্র শিল্প রক্ষায় এই গোটা চক্র ও তাদের চোরাই কারবার ভেঙে দিতে হবে। যারাই এর সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে আনতে হবে আইনের আওতায়।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট প্রিভেন্টিভ শাখা গঠন করা হয়েছে। এটিও একটি ভালো উদ্যোগ। জানা গেছে, এ টিমের সদস্যরা দিনের নির্ধারিত ডিউটি শেষে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নিয়ে ট্রাকে তল্লাশি করছেন।

তবে সীমিত লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তাই আমরা বলব, বন্ড নিয়ে অনিয়ম রোধে সরকার গৃহীত উদ্যোগের পরিপূর্ণ সুফল পাওয়ার জন্য এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক। এ লক্ষ্যে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট প্রিভেন্টিভ শাখায় পর্যাপ্ত লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া হোক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×