রাখাইনে নাৎসি কায়দায় নির্যাতন

মিয়ানমার সরকার কি রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে চাচ্ছে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাখাইন

রোহিঙ্গা গণহত্যার তদন্তে নিয়োজিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি মিয়ানমারের রাখাইনে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের ওপর এক বিশেষ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাখাইনের বিভিন্ন বন্দিশিবির ও পাড়ায় রোহিঙ্গাদের ওপর নাৎসি কায়দায় নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে ইহুদিদের ওপর হিটলারের নাৎসি বাহিনী যেভাবে নির্যাতন চালিয়েছিল, রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপরও তেমনভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সিদোতির ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের ওপর অনেক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গারা অনুমতি ছাড়া তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যেতে পারছে না, জেলেরা মাছ ধরতে এবং শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না।

হাসপাতালে যেতে হলে ছয়টি প্রশাসনিক বিভাগের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এমনকি বিয়ে ও সন্তান নেয়ার অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। উল্লেখ করা যেতে পারে, মিয়ানমারে এখন মাত্র ৪-৫ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে, ২০১২ সালেও এ সংখ্যা ছিল ২০-৩০ লাখ। গত দুই বছর ধরে রাখাইনে ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে এবং প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। সিদোতি রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন ও গুলি চালানো বন্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সরকারের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন।

সিদোতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তা একদিকে যেমন উদ্বেগজনক, অন্যদিকে তেমন রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিরও বহিঃপ্রকাশ। দেখা যাচ্ছে, বিশ্বময় প্রতিবাদ ও নিন্দার মুখেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটায়নি। একদিকে তারা বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চাচ্ছে না, অন্যদিকে রাখাইনে থেকে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ওপর চালাচ্ছে নির্যাতন। প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার সরকার এমন এক স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে, যা বিশ্ব-ইতিহাসে এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

মিয়ানমার সরকারের এই স্বেচ্ছাচারিতার কাছে বিশ্ববিবেকের আত্মসমর্পণ করা চলে না। যে করেই হোক, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত ও বঞ্চিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের হৃত অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আশার কথা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে সম্মত হয়েছে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। বলা যেতে পারে, রোহিঙ্গা সংকটের দুটি প্রধান দিকের একটি হল বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান, অন্যটি রাখাইন রাজ্যে তাদের ওপর অব্যাহত নির্যাতন। এ দুই সংকট থেকেই মুক্ত করতে হবে রোহিঙ্গাদের। সভ্যতার বর্তমান পর্যায়ে একটি জনগোষ্ঠীর প্রতি মিয়ানমার সরকারের অমানবিক ও স্বেচ্ছাচারী মনোভাব বেশিদিন চলতে পারে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×